রাশিয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের

3

ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার মস্কোর ঘোষণায় ক্ষুব্ধ পশ্চিমা দেশগুলো। রাশিয়ার এই অধিগ্রহণের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে। মস্কো চাইছে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি যেন প্রকাশ্যে না করে গোপনে করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। তবে গত সোমবার মস্কোর এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার বা আগামিকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের এ-সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। রাশিয়ার প্রস্তাব ছিল, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা যেন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তবে মস্কোর এমন প্রস্তাব হালে পানি পায়নি। কথিত গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ্যে ভোটাভুটির পক্ষে রায় দিয়েছে সাধারণ পরিষদের ১০৭টি সদস্য রাষ্ট্র। মাত্র ১৩টি দেশ প্রকাশ্য ভোটের বিরোধিতা করেছে। অন্য দেশগুলো ভোটদানে রিবত ছিল।

গত সোমবারের বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া মস্কোর বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভোট দিতে অন্য দেশগুলোর ওপর পশ্চিমাদের চাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘শান্তি ও নিরাপত্তা বা বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?’ এটিকে তিনি বিভাজন এবং উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তোলার একটি পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এটি এমন কিছু নয় যেখানে সাধারণ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। সাধারণ পরিষদের খসড়া প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইউক্রেনীয় ভূখ- দখলের জন্য রাশিয়ার কথিত গণভোটকে স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রস্তাবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ইউক্রেনের সমর্থনে কথা বলার সময় এসেছে। এটি নিজেদের নিরপেক্ষতার দাবি করার সময় নয়। কেননা, জাতিসংঘ সনদের মূল নীতিগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে একজন ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা। গত সোমবার রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর টুইটারে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, পুতিন একজন সন্ত্রাসী যার ভাষা হলো ক্ষেপণাস্ত্র। দিমিত্রো কুলেবা লিখেছেন, ইউক্রেনজুড়ে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। পুতিন একজন সন্ত্রাসী যার ভাষা হলো ক্ষেপণাস্ত্র। তার একমাত্র কৌশল হলো শান্তিপূর্ণ ইউক্রেনীয় শহরে ত্রাস ছড়ানো। কিন্তু তিনি ইউক্রেনকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবেন না।