রাজশাহীতে হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি

56

raj mapরাজশাহী নগরের একটি মাতৃসদন হাসপাতাল থেকে জন্মের ছয় ঘণ্টা পর এক নবজাতক চুরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ ওই নবজাতককে উদ্ধার করতে পারেনি। এ বিষয়ে থানায় মামলার পর পুলিশ সন্দেহভাজন এক নারীকে গ্রেফতার করেছে। নগরের নওদাপাড়া এলাকায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) নামের একটি এনজিও পরিচালিত নগর মাতৃসদন হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির মায়ের নাম মুক্তি খাতুন (১৮)। বাবার নাম নাসির উদ্দিন। তাঁদের বাড়ি নগরের চরশ্যামপুর এলাকায়। নাসির উদ্দিন একজন দিনমজুর। মুক্তি খাতুন এখনো ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নবজাতক হারানোর ঘটনায় মুক্তি খাতুনের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে রাতেই নগরের শাহমখদুম থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ এ মামলায় হাসপাতালের মাঠকর্মী তহুরা বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নওদাপাড়া নগর মাতৃসদন হাসপাতালে মুক্তি খাতুন জানান, তাঁর গর্ভাবস্থায় ডাঁশমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠকর্মী তহুরা বেগম দুইবার তাঁর বাসায় গেছেন। একবার ৩০-৩৫ বছর বয়সী একজন অচেনা নারীকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তহুরা বলেছিলেন ওই নারী বিদেশি এক প্রকল্পে কাজ করেন। বিদেশি প্রকল্প থেকে তিনি অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের আর্থিক সহায়তা দেবেন। মুক্তি খাতুনের ভাষ্য, সকাল ১০টার দিকে তিনি এই মাতৃসদন কেন্দ্রে ভর্তি হন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। শুরু থেকেই তহুরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ওই অচেনা নারী তাঁর চিকিৎসার খরচ বাবদ তিনহাজার টাকা দেন। এ ছাড়া বাচ্চার জন্য একটি তোয়ালে, কম্বল ও নতুন পোশাক কিনে দেন। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কৌশলে ওই নারী বাচ্চাটি নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, তহুরার ভাষ্য অনুযায়ী অচেনা ওই নারীর নাম পলি। একটা ফোন নম্বরও তহুরা দিয়েছেন। কিন্তু ওই নম্বরে ফোন করলে অন্য লোকজন কথা বলছেন। নবজাতক উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। হাসপাতালে পিএসটিসির কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লাস সাহা নামে একজন অফিস সহকারীকে পাওয়া যায়। তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান। তিনতলাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে নিচতলায় প্রশাসনিক কাজ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য সিটি করপোরেশন ২০০৩ সালে এটি নির্মাণ করে। উদ্বোধন করা হয় ২০০৬ সালে। পিএসটিসি প্রায় ১০ বছর ধরে এটা পরিচালনা করছে।