রাজনৈতিক চাপের কারণেই হিলারিকে নিষ্কৃতি দিয়েছে এফবিআই: ট্রাম্প শিবির

109

08-trampরাজনৈতিক চাপের কারণেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে নিষ্কৃতি দিয়েছে এফবিআই; অভিযোগ করছে ট্রাম্প শিবির। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে। গত রোববার পর্যন্তও হিলারি-সংশ্লিষ্ট মেইল পুন:তদন্তে নেওয়া এফবিআইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছিলো জল্পনাকল্পনা। রিপাবলিকানপন্থী কিছু মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবী বলতে চাইছিলেন, ফেঁসে যেতে পারেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। পড়তে পারেন মামলার কবলে। তবে গত রোববার হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নতুন তদন্তের নাটকীয় সমাপ্তি টেনেছে এফবিআই। নির্বাচনের ১১ দিন আগে পুনঃতদন্ত শুরুর ঘোষণার সময় স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও এদিন (রোববার) এফবিআই প্রধান জেমস কোমি জানিয়েছেন, ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এফবিআই প্রধান ঘোষণা দেন, ‘হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার কাছে আসা এবং তার পাঠানো সব ই-মেইল আমরা তদন্ত করেছি। গত জুলাইয়ে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করছি না।’ এফবিআইএর সিদ্ধান্তে এখন ডেমোক্র্যাট শিবির চাঙ্গা হয়ে উঠলেও কেলেঙ্কারি থেকে হিলারির নিস্কৃতির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প শিবির। তাদের দাবি, ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের কারণে এফবিআই প্রধান এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। গত রোববার মিশিগানে এক নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আটদিনে সাড়ে ছয় লাখ ইমেইল আপনারা পর্যালোচনা করতে পারেন না। আপনারা এটা করতে পারেন না। হিলারি ক্লিনটন দোষী।’ তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এফবিআই-এর পুনঃতদন্তের আওতায় হিলারির যত সংখ্যক ইমেইল থাকার কথা উচ্চারণ করেছেন তা ভুল। কেননা, এফবিআই প্রধান জেমস কোমি জানিয়েছিলেন, হুমা আবেদীনের স্বামী অ্যান্থনির ল্যাপটপে হিলারির পুরো সাড়ে ছয় লাখ ইমেইল তারা পর্যালোচনা করেননি। পর্যালোচনা করেছেন কেবল হিলারির আদানপ্রদানকৃত মেইলকে। উল্লেখ্য, হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনার তদন্তে নামে এফবিআই। গত ২৯ জানুয়ারিতে সংস্থাটির অনুরোধে হিলারির ২২টিরও বেশি ইমেইলকে ‘অতি গোপনীয়’ বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আর জুলাই মাসে প্রথম ধাপের তদন্ত শেষ করে এফবিআই জানিয়েছিল হিলারিকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে না। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই-এর নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ৮ দিনের মাথায় জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা এলো এফবিআইএর তরফ থেকে।