রহনপুর রেলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম বাস্তবায়ন পরিষদের

18

ত্রিশ বছর আগে চালু করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলবন্দর। সেটিকে পূর্ণাঙ্গ বন্দর ও অবকাঠামো নির্মাণের দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিন উপজেলার বাসিন্দারা। গঠিত হয়েছে রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদ গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট নামে। চলমান রয়েছে তাদের কর্মসূচি।
কমর্সূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রহনপুর রেলস্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জনসভা। জনসভায় আন্দোলনকারীদের পক্ষে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেল।
জনসভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিন উপজেলার বাসিন্দাসহ পার্শ¦বর্তী উপজেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার এলাকার একাংশের জনগণ জনসভায় অংশ নেন। তারাও এ স্টেশন দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকে বলে তারাও দাবি জানাচ্ছেন।
রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেলের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেনÑ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রেজা, রহনপুর পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান খাঁন, নাচোল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু, ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াশিন আলী শাহ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বাচ্চু, পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমদ, মহিলা লীগ নেত্রী সাবিনা শবনম কেয়া, হোসনে আরা পাখি, রেল বাস্তবায়ন পরিষদের নেতা তৌহিদুজ্জামান বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান জেমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় বক্তারা বলেন, রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনটি প্রাচীনতম এবং সীমান্তবর্তী প্রথম স্টেশন। ব্রিটিশ আমল থেকে ভারতের সাথে রেল যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এ রুট দিয়ে। বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ত্রিদেশীয় ট্রানজিট হিসেবে এ রহনপুর স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রয়েছে। তারা আরো বলেন, ২০১০ সালে ভারত-বাংলাদেশের একটি যৌথ সভায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মধ্যে দুই দেশের একটি স্মারক চুক্তি হয়। সেখানে রেলবন্দর হিসেবে ওপারে সিঙ্গাবাদ ও এপারে রহনপুরের নাম উল্লেখ করা আছে।
বক্তারা বলেন, সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে প্রথম কোনো স্টেশনে রেলবন্দর হতে হবে। আর প্রথম স্টেশন হিসেবে রহনপুর উপযুক্ত পয়েন্ট। কিন্তু একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল সরকারকে ভুল বুঝিয়ে সীমান্ত থেকে চারটি স্টেশন পার হয়ে আমনুরায় করার চেষ্টা করছে। রহনপুরকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার করে অযৌক্তিক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও রেলের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী কারণে তা হয় না। এছাড়া বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন রহনপুরকে আধুনিকায়ন করে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান না করে, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলবন্দর অন্য জায়গায় নিয়ে জায়গার পাঁয়তারা করছে। এটা মেনে নেয়া যায় না।
বক্তারা বলেন, রহনপুর রেলবন্দর আছে থাকবেই। আমরা শুধু রহনপুর বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। এটা দাবি নয়, এটা আমাদের ন্যায্য অধিকার। এটা এলাকায় গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
জনসভায় তিন উপজেলার অনেক নেতা হুশিয়ার করে বলেন, যদি অন্য কোনো স্থানে রেলবন্দর হয় তাহলে রেললাইনে শুয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।
দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের জিএমসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে বাস্তবায়ন পরিষদের নেতারা সাক্ষাৎ করেছেন। তাছাড়া এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময়, মানববন্ধন, রহনপুর পৌর এলাকার সকল দোকানপাট এক ঘণ্টা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান ধর্মঘট ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছে রেলবন্দর বাস্তবায়ন পরিষদ।