যাতায়ত খরচ বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে অনেকেই বাইসাইকেলে ঝুঁকছে

15

যাতায়ত খরচ বাঁচাতে বিকল্প হিসেবে অনেকেই বাইসাইকেলে ঝুঁকছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দ্রব্যমূল্য, বাসভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রিকশাভাড়া, সিএনজি অটোরিকশা ভাড়াও। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাইসাইকেলের বিক্রি বেড়েছে।
দেশের বাইসাইকেলের সবচেয়ে বড় বাজার বংশাল। বাইসাইকেল কিনতে অনেকেই সেখানে ভিড় জমাচ্ছে। বর্তমানে বাইসাইকেলের দোকানগুলোতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় ক্রেতাদের বেশি ভিড় হচ্ছে। অনেকেই দেখেশুনে পছন্দের সাইকেল কিনছে।
বাংলাদেশ সাইকেল মার্চেন্ট অ্যাসেম্বলিং অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিএমএআইএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জ্বালানিবাহী যানবাহনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাইসাইকেল কিনছে ক্রেতারা। অর্থ সাশ্রয়ী হওয়ায় এখন সাধারণ চাকরিজীবী থেকে শুরু করে যে কারোর পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পরিবেশবান্ধব বাহন বাইসাইকেল। দেশে প্রতি বছর স্থানীয় বাজারে ১২ লাখের কাছাকাছি সাইকেলের চাহিদা। যার বাজারমূল্য ৩ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া দেশের বাইরেও প্রচুর সাইকেল রপ্তানি হচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ পিস সাইকেল রপ্তানি হয়েছে। তাতে বছরে রপ্তানি থেকে আয় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি ডলার।
সূত্র জানায়, রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল ও আশপাশে প্রায় ২শ’টির মতো সাইকেলের দোকান ও আমদানি-রপ্তানিকারকের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে বাইসাইকেলের পাশাপাশি ইলেকট্রিক সাইকেলেরও বিক্রি বেড়েছে। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইসাইকেল বিক্রিও বেশ বেড়েছে। তবে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকলে তা আরো কয়েকগুণ হতো।
ঢাকার বাইরে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বাইসাইকেল বিক্রির খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর মিলে দেশের অন্তত ৭৫ আমদানিকারক বিদেশ থেকে সাইকেল আনছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশে আরএফএল, মেঘনা, জার্মান বাংলা, আলিটা, করভোসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্র্যান্ডের সাইকেল বিক্রি করছে। ওসব দেশী ব্র্যান্ড স্থানীয় বাজারের ৩০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে। যদিও ২০১০ সাল পর্যন্ত এ বাজারের পুরোটাই ছিল আমদানিনির্ভর। এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে ওসব বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশে বাইসাইকেল রপ্তানিও করছে।
এদিকে বাইসাইকেলের চাহিদার বিষয়ে বিবিএমএআইএ সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টি জানান, গত কোরবানি ঈদ পর্যন্ত বাইসাইকেলের বিক্রি একদম কম ছিল। এখন তা পিকআপ করেছে। বিক্রি এখন ভালো। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিক্রি কতটা বেড়েছে সেটা বুঝতে আরো কিছু সময় লাগবে। বর্তমানে ডলারের দাম অস্বাভাবিক। কয়েক মাসে কাঁচামালের দামও বেড়েছে। ফলে বাইসাইকেলের উৎপাদন ও আমদানি উভয় খরচ বেড়েছে। সেজন্য বাজার স্থিতিশীল নয়। বোঝা যাচ্ছে না পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে। চাহিদা থাকলেও অনেকে এলসি করতে পারছে না। আবার অনেক ক্রেতার ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে বাইসাইকেল কিনতে পারছে না। সবার পরিস্থিতিই নাজুক।