মৎস্য সপ্তাহ শুরু, জেলার চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত ১৯৮১ টন মাছ

21

মাছ উৎপাদনে সম্ভাবনাময় একটা জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ জেলার ২৮ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন মাছের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৩০ হাজার ৬৫৩ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত মাছের পরিমাণ ১ হাজার ৯৮১ মেট্রিক টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এই মাছের বড় একটা অংশ যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মাছ উৎপাদনের এই পরিমাণ আরো বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
গতকাল শনিবার সকালে জেলা মৎস্য অফিসে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহসান। এ সময় সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, নাচোলের খামার ব্যবস্থাপক আব্দুর রহিম উপস্থিত ছিলেন।
আমিমুল এহসান জানান, এখানে যেমন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছে তেমনি বড় উদ্যোক্তাও রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গর্বের বিষয় এ জেলায় দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ ইন পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম (ওহ চড়হফ জধপবধিু ঝুংঃবস) রয়েছে। যা বাংলাদেশে এটিই প্রথম। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এরই মধ্যে মৎস্য সম্পদে বিশেষ অবদান রাখায় ৩ জন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪টি নদী, ৬৩টি বিল, সরকারি ও বেসরকারি ১০ হাজার ১৯৭টি পুকুর, ৬৯টি প্লাবন ভূমি, ২৯টি বরোপিট ও ৩১ হাজার ১৯টি মৎস্য খামারের মাধ্যমে এই মাছগুলো উৎপন্ন হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫৪টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, ২টি সরকারি মৎস্য খামার, ৪টি বেসরকারি হ্যাচারি ও ৮৪টি নার্সারি রয়েছে। প্রতি বছর সরকারি ২টি মৎস্য খামারে ১৬৮ কেজি, বেসরকারি ৪টি হ্যাচারিতে ১ হাজার ৫০০ কেজি রেণু উৎপন্ন হয়। এছাড়াও ৮৪টি নার্সারিতে ৪০২.৯১ লাখটি মাছের পোনা উৎপন্ন হয়। এদিকে মাছের খাবার উৎপদনের জন্য জেলায় ১টি কারখানাও রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর ৭টি স্থানকে মাছের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো- শিবগঞ্জ উপজেলার রানীবাড়ি চাঁদপুর ঘাট, তর্তিপুর ঘাট ও কানসাট পুকুরিয়া ঘাট, সদর উপজেলার রাজরামপুরের পিআর বিশ্বাসের ঘাট ও বিজিবি ক্যাম্প-বারঘোরিয়া বাজার, নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর ঘাট ও গোমস্তাপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ঘাট।
“বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি” এই প্রতিপাদ্যে এ বছর যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক মৎস্য সপ্তাহ-২০২১ পালিত হচ্ছে।
ড. আমিমুল এহসান জানান, মৎস্য সপ্তাহের লক্ষ্য হচ্ছে মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ, এর সুষ্ঠু ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি, সব ধরনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং জাতীয় আয়ে একটা বড় ধরনের ভূমিকা রাখা ও সবাইকে সচেতন করা মৎস্য সপ্তাহের লক্ষ্য।
প্রথম দিন শনিবার ছিল জেলা সদরে মাইকিং ও ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারণা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিতীয় দিন আজ রবিবার জেলা / উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ এবং জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে সফল ৩ মৎস্যচাষিকে সম্মাননা প্রদান এবং সদর উপজেরা পরিষদ পুকুরে পোনা অবমুক্ত করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য দপ্তরে মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।
তৃতীয় দিন সোমবার প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।
চতুর্থ দিন মঙ্গলবার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মৎস্যচাষিদের মাছ চাষ বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ সেবা প্রদান, মুকুরের মাটি ও পানি পরীক্ষা করা হবে।
পঞ্চম দিন বুধবার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাছচাষিদের মাছ চাষ বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ সেবা প্রদান, পুুকুরের মাটি ও পানি পরিক্ষা এবং মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে মির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।
ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ / উপকরণ (মৎস্য খাদ্য / চুন / সার ইত্যাদি) বিতরণ করা হবে।
সপ্তম দিন শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সাথে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের মতবিনিময় ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
গোমস্তাপুর প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জর গোমস্তাপুরে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদর সাথে মতবিনিময় করেছে উপজলা মৎস্য অফিস। গতকাল শনিবার সকালে মৎস্য অফিস কার্যালয়ে গৃহীত কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার, আমনুরা (সংযুক্ত দায়িত্ব, গোমস্তাপুর) খামার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমানুল্লাহ খান।
পরে সাংবাদিকদর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপজলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মনিরুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, মৎস্য সপ্তাহের গৃহীত কর্মসূচিতে রয়েছ পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্যজীবীদর সাথে মতবিনিময়, পুকুরের মাটি ও পানি পরীক্ষা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, খাদ্য উপকরণ বিতরণ, উপজলায় বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে প্রচারণা। এছাড়া আরো জানানা হয়, গোমস্তাপুর উপজলায় বর্তমানে মাছের উৎপাদন ৫ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন, চাহিদা রয়েছে ৪ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন, উদ্বৃত্ত ৬০০ মেট্রিক টন, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। এছাড়া মাছর উৎপাদন বদ্ধির লক্ষে উপজেলার জলাশয় খনন ও সংস্কার করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি : জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসার। গতকাল শনিবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা অফিসে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার ড. মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক, সহকারী মৎস্য অফিসার নাইমুল হক, স¤প্রসারণ কর্মকর্তা অন্তরা ইয়াসমিন, ক্ষেত্র সহকারী মাহিদুর রহমান, হাফেজা খাতুন ও ভাসকর কুমার বসাক।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা, পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্যচাষি / মৎস্যজীবীদের নিয়ে মতবিনিময়, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, পুকুরের মাটি ও পানি পরীক্ষা, মৎস্যখাদ্য উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার ড. মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক আরো জানান, উপজেলার ৩ হাজার ৫৯৮ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৩০০ জন মাছচাষি মাছ উৎপাদন করেন।
ভোলাহাট প্রতিনিধি : জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে ভোলাহাট উপজেলা মৎস্য অফিস। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ভোলাহাট মৎস্য অফিসে ভোলাহাট প্রেস ক্লাব সভাপতি গোলাম কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (চ.দা.) মু. ওয়ালিউল ইসলাম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ভোলাহাট উপজেলায় ছোট বড় মোট সরকারি পুকুর ৫১টি, বেসরকারি পুকুর ও বাণিজ্যিক মৎস্য খামার ৬৪৭টি, বিল ১০টি, নদ-নদী ১টি ও খাল ৬টি। এ সবের মোট আয়তন ২ হাজার ৫৫০ হেক্টার এবং মাছ উৎপাদন হবে ২ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন। ভোলাহাট উপজেলায় ১ হাজার ৫৯৫ মেট্রিক টন মাছের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত ১ হাজার ৮৫ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, এ উপজেলায় মোট মাছচাষি রয়েছেন ৩০৮ জন এবং মৎস্যজীবী রয়েছেন ৮১৮ জন।
ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ২৮ হতে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৎস্য সপ্তাহ পালন করা হবে। এর মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক প্রচারণার অংশ হিসেবে মাইকিং, পোনা অবমুক্ত, পানি পরীক্ষা, মৎস্যজীবী ও মাছচাষিদের সাথে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
নিয়ামতপুর প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিকগণের সাথে মতবিনিময় করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস। শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য দপ্তরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে মাইকিং এবং ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে প্রচারণা, ২৯ আগস্ট পোনা অবমুক্ত ও মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, ৩০ আগস্ট প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের সাথে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক মতবিনিময়, ৩১ আগস্ট মৎস্যচাষিদের মাছচাষ বিষয়ক নিবিড় পরামর্শ সেবা প্রদান, পুকুরের মাটি, পানি পরীক্ষণ, ১ সেপ্টেম্বর মৎস্যচাষিদের পরামর্শ প্রদান, ২ সেপ্টেম্বর সুফলভোগীদের মাঝে মৎস্যচাষের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণী, ৩ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপ্তি ঘোষণা।
এ সময় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম।