‘মেসির যাওয়াটা কষ্টের, কিন্তু আফসোস নেই’

3

বার্সেলোনা ছেড়ে লিওনেল মেসির পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। তারপরও কাতালান ক্লাবটিতে আর্জেন্টাইন তারকাকে হারানোর হাহাকার কমেনি একটুও। ক্লাব সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার কণ্ঠেও একই সুর। তবে কঠিন বাস্তবতার নীরিখে মেসিকে চলে যেতে দেওয়ায় কোনো ভুল দেখেন না তিনি। মেসির অবশ্য বার্সেলোনায় থেকে যাওয়ার ইচ্ছে পুরোপুরিই ছিল। ক্লাবেরও ইচ্ছে ছিল তাকে ধরে রাখার। কিন্তু ক্লাবের আর্থিক সমস্যা ও লা লিগার ফিন্যান্সিয়ার ফেয়ার প্লে নিয়মের বাধায় সেটা আর সম্ভব হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে গত অগাস্টে পিএসজিতে নাম লেখান রেকর্ড সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ঠিকানা বদলের পর মেসি অনেকবার বলেছেন, সম্ভব হলে ভবিষ্যতে অবশ্যই কাম্প নউয়ে ফিরতে চান তিনি। হোক সেটা নতুন ভূমিকায়। বার্সেলোনার পক্ষ থেকেও ক্লাবের ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের প্রতি দেখানো হয়েছে একইরকম আবেগ-ভালোবাসা।

বার্সেলোনার অফিসিয়াল মিডিয়ার সঙ্গে সোমবার লাপোর্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপকালে স্বাভাবিকভাবেই ওঠে মৌসুমের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়টি। তিনিও কথা বলেন মন খুলে। সেখানে খারাপ লাগা থাকলেও আফসোস নেই। সব সিদ্ধান্তের মধ্যে এটাই সবচেয়ে কষ্টের। কখনোই আমি এটা করতে চাইনি। তবে এর জন্য আমি দুঃখিতও নই। কারণ ক্লাবকে সবকিছুর ওপরে রাখতে হতো, এমনকি ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়েরও ওপরে এবং সেটাই আমি করেছি। পরিস্থিতিটাই তখন এমনই ছিল।” “আমরা পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল, এরপরই যেন সব শেষ, কিন্তু বার্সেলোনার ইতিহাস চলমান।

পরিশ্রম ও যৌক্তিক সব সিদ্ধান্তের দ্বারা আমরা আবার সাফল্যের পথে ফিরতে পারি এবং আমরা সেটাই করছি। মেসি-গ্রিজমানদের হারিয়ে মৌসুমের শুরু থেকেই বাজে সময়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল বার্সেলোনা। একের পর এক ব্যর্থতায় লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে নিচের দিকে নামতে থাকে। ছিটকে যায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে এবং গত জানুয়ারিতে কোপা দেল রে থেকেও বিদায় নেয় তারা। টানা ব্যর্থতার পর শাভি এরনান্দেসের কোচিংয়ে অবশেষে যেন সঠিক পথের দিশা পেয়েছে বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচে জিতেছে তারা। এই ম্যাচগুলোয় গোল করেছে ১৪টি, হজম করেছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে লা লিগায় জিতেছে টানা তিন ম্যাচ। এর ফলে লিগ টেবিলেও ভালো উন্নতি হয়েছে বার্সেলোনা। ২৬ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৯ ড্রয়ে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে উঠেছে তৃতীয় স্থানে।