মেসিদের মন খারাপ

5

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাওয়ে ম্যাচে পিএসজি ভালো করতে পারছে না অনেক দিন ধরে। সবশেষ বেনফিকার মাঠে লিওনেল মেসির দারুণ গোলে জয়ের আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত মলিনতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। অনেক চেষ্টা করেও কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় দলের সবাই ভীষণ হতাশ বলে জানালেন কোচ ক্রিস্তফ গালতিয়ে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বুধবার রাতে বেনফিকার বিপক্ষে ১-১ ড্র করে পিএসজি। নান্দনিক গোলে মেসি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে দানিলো পেরেরার আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে। দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য করলেও মেসি-এমবাপেরা পারেননি ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে। এই ম্যাচেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৪০টি দলের বিপক্ষে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দলের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ডটি অবশ্য আগে থেকেই তার দখলে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো সুযোগ পায় পিএসজি; কিন্তু একটিও কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ‘এইচ’ গ্রুপে অবশ্য শীর্ষেই আছে তারা; তিন ম্যাচে বেনফিকা ও পিএসজির পয়েন্ট সমান ৭ করে।

গোল পার্থক্যে এগিয়ে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। এই মাঠের ফল পিএসজির অ্যাওয়ে ম্যাচের বিবর্ণতা ফুটিয়ে তুলেছে আরও প্রকটভাবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলা সবশেষ ৭ ম্যাচে মাত্র একটি জয় তাদের। প্রতিযোগিতাটিতে গত ১১ ম্যাচে জাল অক্ষত রাখতে পারেনি লিগ ওয়ানের দলটি। তবে খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই গালতিয়ে। “খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। কেননা, তারা অনেক চেষ্টা করেছে। আক্রমণভাগে আমাদের কৌশলগতভাবে অনেক ভালো মানের খেলোয়াড় ছিল। প্রথমার্ধে আমরা বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারিনি, যদিও চমৎকার একটা গোল পেয়েছিলাম।” “দ্বিতীয়ার্ধে আমি ছেলেদের কাছে উইংয়ে আরও গতিশীলতা, গভীরতা এবং প্রচেষ্টা দেখতে চেয়েছিলাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালোও খেললাম (কিন্তু গোল পেলাম না)।” ম্যাচের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট পিএসজির হতাশার কারণ। বেনফিকা যেখানে ৮টি শট নিয়েছে, সেখানে পিএসজির শট প্রায় দ্বিগুণ, ১৫টি। ৭০০টি সফল পাস দিয়েছে তারা, কিন্তু তারপরও হতাশা পিছু ছাড়েনি গালতিয়েরের দলের।