মেরুর বরফ ছাড়া কি শ্বেত ভালুক বাঁচবে?

3

পোলার বিয়ার বা শ্বেত ভালুকের প্রধান আবাসস্থল মেরু অঞ্চলের হিমশীতল পরিবেশ। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে যেভাবে মেরুর বরফ গলতে শুরু করেছে, তাতে বিনষ্ট হচ্ছে তাদের বাসস্থান। এরইমধ্যে বিপণœ প্রাণীর তালিকায় নাম উঠে এসেছে শ্বেত ভালুকের। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা না গেলে এই শতাব্দীর শেষের দিকে প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এ অবস্থা আশার আলো দেখাচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এক গবেষণা। এতে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা একদল শ্বেত ভালুক তুলনামূলক কম শীতল পরিবেশেই বছরের পর বছর ধরে বংশবৃদ্ধি করছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ ছাড়াই এদের কিছু প্রজাতি হয়তো ভবিষ্যতে টিকে থাকতে পারবে। সম্প্রতি দ্য জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দক্ষিণপূর্ব গ্রিনল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকাটিতে বছরে মাত্র ১০০ দিনের মতো সামুদ্রিক বরফ থাকে। সেখানেই কয়েকশ শ্বেত ভালুক তুলনামূলক কম উষ্ণ পানিতে শিকারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানী ও গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ক্রিস্টিন লেড্রে বলেন, শ্বেত ভালুকগুলো বছরে আট মাসেরও বেশি সময় সামুদ্রিক বরফবিহীন এলাকাটিতে বেঁচে থাকে। কারণ সেখানে হিমবাহ, মিঠাপানি ও বরফের সংযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বড় প্রশ্ন হলো- মেরু ভালুকরা কোথায় টিকে থাকতে পারবে? আমি মনে করি, এমন জায়গার ভালুকগুলো আমাদের সে বিষয়ে অনেক কিছু শেখাতে পারে।প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও জিনতত্ত্ববিদ ড. বেথ শাপিরো জানান, তারা পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন শ্বেত ভালুকের দল পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই দলটি অন্তত কয়েকশ বছর ধরে অন্য মেরু ভালুকদের থেকে আলাদা বসবাস করছে। তিনি জানান, বিচ্ছিন্ন এসব শ্বেত ভালুকের খুব একটা উন্নতি হচ্ছে তা নয়। এদের বংশবৃদ্ধির গতি খুবই ধীর এবং আকারেও ছোট। পৃথিবীতে আনুমানিক ২৬ হাজার শ্বেত ভালুক অবশিষ্ট রয়েছে। ড. শাপিরো বলেন, এটি স্পষ্ট যে, আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার কমাতে না পারলে মেরু ভালুক বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এই অসাধারণ প্রজাতি সম্পর্কে আমরা বেশি বেশি শিখতে পারলে তাদের আরও ৫০ থেকে ১০০ বছর বেঁচে থাকতে সাহায্য করতে পারবো। সূত্র: বিবিসি।