মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে তামিম-মুশফিকের জোড়া শতক

161

04_Tamim-Mousfiq (Custom)

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ওয়ানডেতে শতক না পাওয়ার হতাশা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ঘোচালেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১১২ বলে শতক পূরণ করেন তিনি। শতকের ইনিংসটি ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজান এই বঁহাতি ব্যাটসম্যান।
ইনিংসের ৩৫তম ওভারের পাকিস্তানের স্পিনার সাইদ আজমলকে দারুণ এক চার মেরে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান তামিম। শুরুতে ধীর লয়ে খেলা তামিম অর্ধশতক করতে খেলেন ৭৫ বল। ব্যক্তিগত ৪৮ রানে প্রাণ পান তামিম। ইনিংসের ২৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সাদ নাসিমকে সহজ ক্যাচ দেন তিনি কিন্তু পাকিস্তানের এই স্পিনার তা ধরতে ব্যর্থ হন। প্রাণ পাওয়ার পর আর ভুল করেননি তামিম। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দারুণ সব শটে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক তুলে নেন ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। ব্যাক্তিগত ১২৩ রানে ওয়াব রিয়াজের বলে বিজওয়ানের কাছে ক্যাচ দিলে সাঁজ ঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তামিম সর্বশেষ শতকটি করেছিলেন ২০১৩ সালের মার্চে; শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাম্বানটোটার ম্যাচে। এরপর চারবার অর্ধশতক পেরুনো ইনিংস খেললেও কোনো ইনিংসকে শতকে রূপ দিতে পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড বিশ্বকাপেও শতকের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন তামিম কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রান তুলে আউট হন তিনি। বিশ্বকাপের একাদশ আসরে ছয় ইনিংসে ১৫৪ রান আসে তামিমের ব্যাট থেকে। তার ছয় ইনিংস ছিল ১৯, ০, ৯৫, ২, ১৩ ও ২৫। এ কারণে সমালোচকদের তোপের মুখে পড়েন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। সে সমালোচনার জবাব পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেই দিয়ে দিলেন তামিম। তামিম ইকবালের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অসাধারণ এক শতক করেছেন মুশফিকুর রহিম। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানের এটি তৃতীয় শতক। ১৩টি চার ও দুটি ছয়ে ৬৯ বলে শতকে পৌঁছান মুশফিক, যা বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের তৃতীয় দ্রুততম। টস জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করলেও মাঝে রানের গতি কমে যায়। সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার পর একপর্যায়ে রান তোলার গড় সাড়ে তিনে নেমে যায়। এরপরই তামিমের সঙ্গে জুটি বেধে রানের গতি বাড়ানোয় মনোযোগ দেন মুশফিক। তিনি সফলও হন। ৬টি চারে ৪২ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন মুশফিক। অর্ধশতক পাওয়ার পর যেন আরও চওড়া হয়ে ওঠে তার ব্যাট। শতকে পৌঁছাতে এরপর ২৭ বল নেন তিনি। এর মধ্যেই ৭টি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারি মারেন তিনি। ৪৩তম ওভারে ৮০ রান থেকে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছান মুশফিক। বিশ্বের অন্যতম সেরা অফস্পিনার সাইদ আজমলের ওভারটিতে অসাধারণ দুটি ছক্কা মারেন তিনি। ৭৭ বলে ১০৬ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের বলে আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তামিমের সঙ্গে ১৭৮ রান তোলেন মুশফিক। যেকোনো উইকেটে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এরপর সাকিব আর হাসানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫০ রান তোলেন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য এই ব্যাটসম্যান।