মিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা : গ্রেফতার ২

72

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালামের যে বাড়িতে ‘জেএমবির জঙ্গি’ আবদুল্লাহ ও তার পরিবার বসবাস করে আসছিল সেই বাড়ির মালিক ও এক নৈশপ্রহরীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। ওই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ বিস্ফোরণের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে একটি ‘অপমৃত্যু’ মামলা। র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক লুৎফুল কবির গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, ‘জঙ্গি আবদুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে’ বাড়ির মালিক হাবিুল্লাহ বাহার আজাদ এবং ওই এলাকার নৈশপ্রহরী সিরাজুল ইসলামকে তারা গ্রেফতার করেছেন। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানালেও কোন মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি লুৎফুল কবির। র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, সোমবার রাতে ওই বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরুর পরপরই আজাদ ও সিরাজুলকে র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিকে ওই বাড়িতে বিস্ফোরণ ও মৃত্যুর ঘটনায় র‌্যাবের একজন উপ সহকারী পরিচালক গত বুধবার দারুস সালাম থানায় ‘অপমৃত্যু’ মামলা করেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক-উল-আলম বলেন, বিস্ফোরণের পর সেখানে সাতজনের খুলি ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে- এ বিষয়গুলো এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সন্ত্রাস দমন আইনে কোনো মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পরিদর্শক ফারুক বলেন, এখনো সে মামলা হয়নি। এ মামলাটা পরে হবে। এখন একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এদিকে তিন দিন ধরে সিরাজুলের খোঁজ না পেয়ে তার স্ত্রী নাজমা বেগম তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দারুস সালামের ওই বাড়ির সামনে আসেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার রাত থেকে স্বামীর খোঁজ না পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দারুস সালাম থানায় গিয়েছিলেন। থানায় জিডি করতে গেছিলাম, নেয় নাই। বড় স্যার বলছে, উনি হেফাজতে আছে। সিরাজুল ও নাজমার বড় ছেলে আনোয়ার হোসেনের বয়স পাঁচ বছর, মেয়ে আরিফার বয়স এক বছর। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জে। নাজমা জানান, গত তিনমাস ধরে মিরপুরের ওই বাড়ির সামনের সড়কে নৈশ প্রহরীর কাজ করে আসছিলেন ২৫ বছর বয়সী সিরাজুল। এর আগে তিনি নরসিংদীতে একটি সুতা কলে লাইনম্যানের কাজ করতেন। এইখানে (মিরপুরে) ডিউটি করত রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। সোমবার রাতে ফোনে পাই নাই, ফোন বন্ধ। পরে শুনলাম এইখানে এই অবস্থা। আজকে তাই খুঁজতে আসছি। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটকের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন মধ্যরাতে মিরপুরে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ওই ছয় তলা ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বাসিন্দাদের। বলা হয়, ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় আবদুল্লাহ নামে ‘দুর্র্ধষ’ এক জঙ্গি, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও দুই কর্মচারী আছে। মঙ্গলবার সারাদিন র‌্যাবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা চলে। সন্ধ্যায় জানানো হয়, আবদুল্লাহ আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই ভবনে বিকট শব্দে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। গত বুধবার সকাল থেকে সারাদিন তল্লাশি চালিয়ে বিকালে পঞ্চম তলার ওই বাসা থেকে সাতজনের খুলি ও পোড়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। এ বাহিনীর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গি আবদুল্লাহ নিজেই বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে তারা নিহত হয়। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল থেকে জেএমবিতে জড়িত। তার বাসায় জঙ্গিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত, বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। সারোয়ার জাহান, তামিম চৌধুরী, সোহেল মাহফুজের মতো বড় বড় জঙ্গিরাও বিভিন্ন সময়ে আবদুল্লাহর বাসায় থেকে গেছেন।