মিতু হত্যা: অস্ত্র আইনের মামলায় ২ আসামির বিচার শুরু

91
  1. imagesচট্টগ্রামে সাবেক এসপিপত্মী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় দুই আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ মো. শাহে নুর মঙ্গলবার দুই আসামি এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে শুনানি শুরুর দিন ঠিক করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য শুরুর জন্য ১৮ জানুয়ারি তারিখ রেখেছে। গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে সন্তানের সামনে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু মিতুকে। ওই মাসের ২৮ তারিখ ভোলা ও মনিরকে দুটি অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতরের কথা জানায় পুলিশ। বাকলিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এ মামলা করা হয়। পুলিশ বলে আসছে, ওই দুইজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা পয়েন্ট ৩২ বোরের দেশি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তলটি মিতু হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছিল। ভোলাকে হত্যা ও অস্ত্র আইনের দুই মামলায় আসামি করা হলেও ‘তার কর্মচারী’ মনিরকে শুধু অস্ত্র আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়। গত ১৪ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মনির। পুলিশ কর্মকর্তারা সে সময় জানান, ভোলা একটি কাপড়ভর্তি শপিং ব্যাগ রাখতে দিয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে মনির দাবি করেছেন। তার দাবি, ব্যাগের ভেতরে কী ছিল তা তিনি জানতেন না। পরে পুলিশ ভোলাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় অভিযানে এলে ব্যাগের ভেতর অস্ত্র থাকার কথা তিনি জানতে পারেন। বাকলিয়া থানার এই মামলায় গত ২৮ জুলাই ভোলা ও মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহিম উদ্দিন। মিতু হত্যার ঘটনায় তার স্বামীর দায়ের করা মামলায় এখনও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশ। কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা নামের সন্দেহভাজন একজন গ্রেফতার না হওয়ায় তদন্তও থমকে আছে। মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ। ওই ঘটনায় পুলিশের হাতে সাতজন গ্রেফতার হওয়া ছাড়াও আরও দুজন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতারদের মধ্যে মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত ২৬ জুন আদালতে জবানবন্দি দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মুছার নাম বলেন। মিতু হত্যাকা-ের কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম থেকে এসপি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঢাকায় বদলি হয়েছিলেন তার স্বামী বাবুল আক্তার। স্ত্রী খুন হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন বাবুল। ওই বাড়ি থেকে বাবুলকে গত ২৪ জুন ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর নানা গুঞ্জন ছড়ায়। তখন তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র নেওয়ার খবর ছড়ালেও সে বিষয়ে কেউই মুখ খুলছিলেন না। গত ১৪ অগাস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, বাবুলের অব্যাহতির আবেদন তার কাছে রয়েছে। তার ২২ দিন পর ৬ সেপ্টেম্বর বাবুলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন হয়।