মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিচারপতি বজলুর রহমান

114

dsc01157-customচাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতি সন্তান হাইকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা’র দফান সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ  শহরের খালঘাট  কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে খাল ঘাট গোরস্থানে তাঁর মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
নামাজে জানাজায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির, ওয়ার্কাশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ এনামুল বারী, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির, জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মইনুদ্দীন মন্ডল, সাবেক এমপি জিয়াউর রহমান, সাবেক উপজেলা জেয়ারম্যান আলহাজ্ব রুহুল আমিন, মরহুমের ভাই ও দুই ছেলে, আত্মীয়স্বজনসহ আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, পিপি জোবদুল হক, জিপি আনোয়ার হোসেন ডলারসহ জেলা প্রশাসন, জাজশীপ, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ,  বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবন্দ এবং নানান শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
নামাজে জানাজার আগে জেলা জজশীপ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা শেষে দুপুর পৌণে দু’ টায় হেলিকপ্টার যোগে তাঁর মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে শহরের পুরাতন বাজারে মরদেহ মরহুমের বাসায় নেওয়া হয়। এসময় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে খালঘাট ঈদগা ময়দানে মরদেহ নেওয়া হয়।
১৯৫৫ সালের ১২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের গোয়ালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বজলুর রহমান ছানা। তাঁর পিতা ইউনুস বিশ্বাস এবং মাতা বাদেনুর নেসা। তিনি ১৯৭০ সালে নবাবগঞ্জ হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭২ সালে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। মেধাবী ছাত্র বজলুর রহমান ছানা ১৯৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আইন অনুষদ ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। ৮০ দশকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ান। ১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তিনি সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসনামলে ১৯৭৮ ও ১৯৭৯-৮০ সালে কারাবরণ করেন। ১৯৮৩ সালের বিশেষ সামরিক শাসনামলে সামরিক আদালতে তিনি যাবজ্জীবন কারাদ- প্রাপ্ত হন। তবে, মামলাটি পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে প্রায় ১৫ বছর ঢাকার ধানমন্ডি ল’কলেজে আইনের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে ঢাকার জজ কোর্ট এবং ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোটে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালে সহকারী এটর্নি জেনারেল এবং ১৯৯৯ সালে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে তিনি প্রচুর সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি হাইকোর্ট আপিল বিভাগের একজন সম্মানিত বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রয়াত এই বিচারপতি বেশ কিছুদিন ধরে দূরারোগ্য ব্যধিতে ভুগছিলেন।
এদিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি বজলুর রহমান ছানা’র মৃত্যুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সংগঠন শোক জানিয়েছেন।