মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩ সেনা

2

জর্দান, ইরাক ও সিরিয়ার যৌথ সীমান্তের কাছে একটি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় অন্তত তিন মার্কিন সেনা নিহত ও অপর ৩৪ জন আহত হয়েছে। গত রোববার ওই হামলা চালানো হয় এবং এর ফলে অক্টোবরের শুরুতে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলো। প্রাথমিকভাবে হামলাটি জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হয়েছে বলে আমেরিকার সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হলেও রোববার রাতে আম্মান সরকার জানায়, ঘাঁটিটি সীমান্তের ওপারে সিরিয়ায় অবস্থিত।

মার্কিন সরকার জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বা দামেস্কের অনুমতি ছাড়াই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে সিরিয়ায় অবৈধভাবে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। ইরাকের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওই ড্রোন হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বলেছে, জর্দানের সীমন্তবর্তী সিরিয়ার আল-তানাফ ঘাঁটিতে তারা ওই হামলা চালিয়েছে। এর আগে গতমাসে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর গত ১৭ অক্টোবর থেকে অন্তত ৯৭ বার হামলা হয়েছে। তবে এসব হামলায় কেউ গুরুতর আহত হয়নি।

এই প্রথম ইরাকের প্রতিরোধ আন্দোলনের হামলায় মার্কিন সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটল। গাজা উপত্যকার ওপর দখলদার সেনাদের পৈশাচিক গণহত্যার প্রতিবাদে ইরাকের প্রতিরোধ আন্দোলন ইসরাইল ও তার দোসর আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হানছে। আমেরিকার জন্য বার্তা: হামাস ফিলিস্তিানের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, সিরিয়ার মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ছিল আমেরিকার জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার ঘটনায় বাইডেন প্রশাসনের কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে যে, গাজার নিরপরাধ মানুষের হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকলে তাকে গোটা মুসলিম উম্মাহর মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, গাজার বিরুদ্ধে মার্কিন-ইহুদিবাদী আগ্রাসনের আগুন গোটা অঞ্চলকে জ¦ালিয়ে ছারখার করে দিতে পারে।

মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া: ইসলামি জিহাদ। ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলনও মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এটি এক বিবৃতিতে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবৈধ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে এটি ছিল একটি স্বাভাবিক ও বৈধ প্রতিক্রিয়া। ইসলামি জিহাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যয় প্রায় চার মাস ধরে ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণহত্যার প্রতি আমেরিকা যে নির্লজ্জ সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে তার পরিণতি হচ্ছে এই হামলা।

গাজা উপত্যকায় গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি আগ্রাসনে অন্তত ২৬,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। অন্যদিকে গাজায় স্থল আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ২২০ ইসরাইলি সেনা। ৭ অক্টোবরের আল-আকসা তুফান অভিযানের দিন নিহত প্রায় ৪০০ সেনাসহ এ পর্যন্ত মোট নিহত হয়েছে ৬০০ জনের বেশি ইসরাইলি সেনা।