মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো বদলাতে শুরু করেছে

143

04-

মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাইসেন্স নিয়ে হুন্ডির ব্যবসা করা, বিদেশি মুদ্রার কেনাবেচার হিসেব ঠিক মত না রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম একটু একটু করে বদলাতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অনলাইনে লেনদেন তথ্য বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এখন যে সব মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান লেনদেন করছে তারা ডাটাগুলো অনলাইনে সংরক্ষণ করছে। লেনদেনের পর গ্রাহকদের তথ্য রিসিট আকারে দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিয়মিতভাবে লেনদেনের রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। তাদের লেনদেনের যে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাচ্ছে, তাতে দেখা গেছে ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ আস্তে আস্তে নিয়মের মধ্যে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করতো না, কোনো মিটিং এ এলে সবগুলো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতো, অনলাইন লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা নিয়মের মধ্যে আসতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে তাদের লেনদেন। আমরা একটি ফরমেট দিয়েছি, যেটাতে তারা লেনদেনের তথ্য তুলে ধরছে এবং গ্রাহককেও তাদের পরিচিতিসহ একটি রিসিট প্রদান করছে। এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, তাদের লেনদেনে এ ধরনের স্বচ্ছতা বজায় থাকলে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে একজন গ্রাহকের লেনদেনের যে সীমা রয়েছে (সার্কভুক্ত দেশে ৫শ ডলার ও এর বাইরে ১ হাজার ডলার) তা দ্বিগুণ করে দেয়া হতে পারে। এছাড়া বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের সঙ্গে ডলার এনডোর্স করার যে কাজটি ব্যাংক করে থাকে সেটির সুযোগও তাদের দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলে বাংলাদেশে অবস্থিত সব অ্যাম্বাসিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি প্রদান করবে যাতে করে তাদের করা এনডোর্সমেন্টগুলোকে বৈধ হিসেবে ধরা হয়।
এদিকে, মানিচেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোস্তফা খান সাংবাদিক কে বলেন, ‘আমাদের আসলে সুযোগ এবং সহযোগিতা দরকার। তাহলে আমাদের কাজে আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে। এর জন্য অবশ্য আমাদের যে দাবি ডলার এনডোর্সের লিমিটটা ব্যাংকের মত চেয়েছি আমরা। সার্কের বাইরে ৩ হাজার এবং সার্কের মধ্যে ২০০ ডলার করার অনুমোদন আমরা চেয়েছি। সেটা আসলে হবে কী হবে না তা এখনো জানি না। তবে এটা না করলে আসলে ই-লিগ্যাল লেনদেন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। কারণ, আমরাও চাই একটা স্বচ্ছতার মধ্যে আসতে।’ তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ান এম্বাসি ছাড়া আসলে আর কেউই আমাদের ডলার এনডোর্স ফেরত দেয় না। এই সমস্যাটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে দূর হয়ে যাবে।’
উল্লেখ্য, অবৈধ পথে দেশ থেকে টাকা পাচার এবং একই পন্থায় দেশে টাকা আনা (হুন্ডি) ঠেকাতে লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোকে। উদ্দেশ্য ছিল বৈধপথে লেনদেন বাড়ানো। কিন্তু ঘটনা ঘটেছিল ঠিক উল্টো। আগে যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা কিংবা হুন্ডির কারবার করতো তারাই লাইসেন্স নিয়ে নতুন উদ্যোমে একই ব্যবসা জমিয়ে তুলেছিল। যা বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হিমসিম খেতে হচ্ছিল। যখন কোনভাবেই তাদের অপরাধ দমন করা যাচ্ছিল না তখন থেকে শুরু করা হয়েছে লাইসেন্স বাতিল করা। যার অপরাধ ধরা পড়তো তারই লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছিল।
তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালের দিকে শুরু হয়েছিল মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স প্রদান। ২০০১ সাল পর্যন্ত মোটামুটি গণহারেই এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। যে সংখ্যা গিয়ে দাড়িয়েছিল ছয়শরও উপরে। এরপর থেকেই আবার শুরু হয়েছে তাদের লাইসেন্স বাতিলের কাজ। আর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নতুন লাইসেন্স প্রদান। নানাবিধ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করতে করতে সংখ্যাটি এখন এসেছে দাঁড়িয়েছে ২৩৪-এ।