মাদক মামলায় দুজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

6

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭৪০ বোতল ফেনসিডিল নিজ হেফাজতে রাখার দায়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় দুজনকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া একই মামলায় অপর চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক শওকত আলী একজন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা হলেন- সদর উপজেলার নবাবজায়গীর ৭নং বাঁধ এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৯) ও জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানীবাড়ি চাঁদপুর গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে রায়হান আলী (২৪)। দণ্ডিত রায়হান আলী পলাতক রয়েছেন।
মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আঞ্জুমান আরা জানান, ২০১৫ সালের ৩১ মে ভোর ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নয়াগোলা এলাকায় পুলিশ লাইন সংলগ্ন সড়কে চেকপোস্ট বসায় গোয়েন্দা পুলিশ। গোপন তথ্যানুযায়ী চেকপোস্টে প্রথমে একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে আরোহী দুজনকে আটক করা হয়। এরপরই ওই মোটরসাইকেলের পেছেনে আসা একটি প্রাইভেট কারকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় কারটি সড়কের পাশে নেমে গিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশ কার থেকে দণ্ডিত উপরোক্ত দুজনকে আটক করলেও দুজন পালিয়ে যান। এরপর কার তল্লাশি করে উদ্ধার হয় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিল। এ ঘটনায় ওইদিন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম আটক চারজন ও পলাতক দুজনসহ ৬ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর ওই ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ শুনানি, ১১ জনের সাক্ষ্য ও প্রমাণের পর ট্রাইবুনাল আজ রবিবার চোরাই পথে নিষিদ্ধ ফেনসিডিল এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে শরিফ ও রায়হানকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড প্রদান করেন।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আ্যাডভোকেট তসিকুল ইসলামসহ অন্যরা।