মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য এসেছিল বিরল শিশুটি

60

তিন ঘণ্টা বেঁচে থাকার পর উভয় লিঙ্গের শিশুটি মারা গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম দক্ষিণটোলা গ্রামের ভ্যানচালক নাসির হোসেনের স্ত্রী জিন্নাতুন খাতুন গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় মহানন্দা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজার করে এ শিশুর জন্ম দেন।
সিজারের পর চিকিৎসক ও নার্সরা শিশুটিকে দেখে হতবাক হয়ে যান। তারা দেখেন, শিশুটি ছেলে ও মেয়ে উভয় লিঙ্গের। মাথা অর্ধেক নেই, মগজও রয়েছে পৃথকভাবে একটি থলেতে।
মহানন্দা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী নন্দন কুমার কর্মকার জানান, ওই প্রসূতির প্রসব বেদনা উঠলে পরিবারের লোকজন শুক্রবার ২৭ আগস্ট রাত ৯টার দিকে তাদের সেন্টারে নিয়ে আসে। রাত ১০টায় ওই প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনটি করেন ডা. হাসেম আলী নামে একজন চিকিৎসক।
অপারেশনের পর চিকিৎসক ও নার্সরা দেখেন শিশুটি অদ্ভুত আকৃতি ও উভয় লিঙ্গ নিয়ে জন্ম নিয়েছে। রাত ১টার পর অদ্ভুত ওই শিশুটি মারা যায়।
প্রসূতি জিন্নাতুন খাতুনের বোনের স্বামী আলামিন বলেন, আমার শ্যালিকার দ্বিতীয় শিশু এটি। এর আগে একটি ছেলে রয়েছে তার। আলট্রসোনোগ্রামেই শিশুটির অদ্ভুত আকৃতির বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছিলাম। শিশুটির মাথা নেই বললেই চলে। কপাল থেকেই শেষ হয়েছে। মগজ আলাদাভাবে একটি থলেতে আছে।
শিশুটির জন্মের পর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আয়া মোসা. ইদন বেগম বলেন, জন্মের পর বাচ্চাটিকে তার হাতে তুলে দেয়া হয়। বাইরে এসে নাভি কেটেছি। তার ওজনসহ বাকি সবকিছু স্বাভাবিক আছে। মুখে হাসিও দেখেছি। কিন্তু মাথা অর্ধেক নেই এবং পুরুষ ও নারীর উভয় লিঙ্গই রয়েছে।
সিজারে অংশ নেয়া নার্স মোসা. ফাতেমা খাতুন বলেন, অপারেশন থিয়েটারে সিজার করার সময়ই দেখতে পায়, বাচ্চাটির মাথা নেই। যা রয়েছে তা মাথার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এমনকি মাথার ভেতরে থাকা মগজ বাইরে আলাদা একটি থলেতে আছে। অবাক করার বিষয় শিশুটির পুরুষাঙ্গ ও মেয়েদের প্রসবদ্বার দুটিই আছে। তিনি আরো বলেন, অপারেশন থিয়েটারে এমন শিশু দেখে সবাই অবাক হয়েছিলাম। পরে তাদের স্বজনদের জানানো হয়। শিশুর মাকেও জানানো হয়েছে। জন্মের কিছুক্ষণ পর তার মা তাকে দেখছে। এরপর জানাজানি হলে উৎসুক জনতা শিশুটি দেখতে ভিড় জমায়। দীর্ঘ সিজারের অভিজ্ঞতায় এমন শিশু কখনো দেখেননি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, এমন ঘটনা খুবই বিরল। উভয় লিঙ্গ নিয়ে জন্ম নেয়ার ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একেবারেই অদ্ভুত! তবে মাথার খুলির পরিপক্বতা না পেলে মগজ আলাদা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে পরিবারের লোকজন মৃত ওই শিশুটিকে শনিবার বেলা ১১টায় বালুগ্রাম গোরস্থানে দাফন করেছে বলে গোমস্তাপুর ইউপির ৩নং ওয়ার্ড সদস্য সাইদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।