মশা তাড়াতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারালেন বৃদ্ধ দম্পতি

15

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের বাবুডাইং নতুনপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার ভোরে একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ির গোয়ালঘরে মশা তাড়াতে ধোঁয়া তৈরির জন্য জ্বালানো ঘুঁটা (গোবর থেকে তৈরি এক ধরনের জ্বালানি) থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একটি ষাঁড়, দুটি ছাগল, ৩০টি মুরগি ও দুটি পাঁতিহাস পুড়ে মারা গেছে।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত মো. আনাদি (৭০) জানান, তার গোয়ালঘরে একটি ষাঁড়, দুটি ছাগল, ৩০টি মুরগি ও কয়েকটি পাঁতিহাস ছিল। মশা তাড়াতে রাতে ঘুঁটা আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরি করা হয়। আনুমানিক ভোররাত তিনটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পেরে সকলে জেগে ওঠেন। তার স্ত্রী সায়েরা বেগম (৬০) আগুন থেকে পশুগুলোকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে গোয়ালঘরে প্রবেশ করেন। এসময় ঘরের চালা খসে পড়ে। কোনোমতে তাকে উদ্ধার করা গেলেও আগুনে পুড়ে মারা যায় পশুগুলো। স্ত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আগুনের শিখা দেখে পাশের কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষরা হাঁড়ি-কলসি নিয়ে ছুটে এসে আগুন নেভাতে শুরু করে। সাথে গ্রামবাসীরাও যুক্ত হয়। ভোর ৬টার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হন সকলে।
তিনি আরো জানান, আগুনে গোয়ালঘরের পাশাপাশি তাদের থাকার ঘরের একটি অংশও পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে কিছু আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়। পুড়ে যাওয়া দুটি ছাগলের একটি ছিল তার মেজো ছেলের। সবমিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
আনাদি বেগমের বড় ছেলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, “হামার শ্বশুর এ বয়সেও খাইটা খায়। ম্যালা কষ্টে ষাঁড়টা পুষছিল। গতকাইলক্যাও (সোমবার) পাইকার আইস্যাছিল। ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দিতে চাহাছিল। কিন্তু আরো দাম পাওয়ার আশায় না বেইচা পুশছিল। এখন তো সব শেষ হয়্যা গ্যালো।”
গ্রামের মোড়ল ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আনাদি চাচার তিন ছেলের সবাই আলাদা। তাদের স্বামী-স্ত্রীর বয়স্ক ভাতার কার্ড থেকে কিছু টাকা পায়। পাশাপাশি কখনো কখনো বাগান জোগানোর কাজ করে থাকে। অনেক কষ্টে গরুটা ছোট থেকেই লালন-পালন করছিল। সম্বল বলতে সেটুকুই ছিল। এখন তো সেটাও আর থাকল না। তাদের সাহায্য দরকার।