মন্ত্রিসভার বৈঠক : ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিধিনিষেধ নেই, তবে মাস্ক পরতে হবে

4

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সরকার চলমান কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ ২২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী পরশু (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে স্কুল-কলেজ (বিশ্ববিদ্যালয়সহ) খোলা হবে। ১ তারিখ (১ মার্চ) থেকে প্রাইমারি স্কুল খুলবে। এরপর থেকে আর বিধিনিষেধ দেয়া হবে না। তবে সবাই যাতে অবশ্যই মাস্ক পরে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগদান করে সভাপতিত্ব করেন এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিধিনিষেধ আর বাড়বে না। তবে যে কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হলে সবাইকেই মাস্ক পরতে হবে। আর সবাইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমরা যেন ‘রিল্যাক্স’ না হই।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে এক কোটি ভ্যাকসিন দেয়ার একটা প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে সাংবাদিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এটা নিয়ে ডিসি, এসপি, মেয়র, চেয়ারম্যান সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে, যাতে সব জায়গায় বলে দেয়া হয়। আমাদের পর্যাপ্ত টিকা আছে। কারো এনআইডি না থাকলেও, একটা ছোট স্লিপের মাধ্যমে টিকা নিয়ে পরে লিস্টে ইনক্লুড করে দেবেন।
‘ডব্লিউএইচও বলছে আরেকটি নতুন ওয়েভ আসার সম্ভাবনা রয়েছে,’ উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা ওমিক্রনের মতো এত সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন না। সেজন্য আমাদের সবারই উচিত টিকা নিয়ে নেয়া।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিন্তা করছে যে ১২ বছরের নিচেও কীভাবে তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন দেয়া যায়। সেটাও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে দেয়া হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে যেন সেভাবেই দিয়ে দেয়া হয়।
নতুন ধরন ওমিক্রনসহ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১০ জানুয়ারি সারাদেশে বিধিনিষেধ জারি করে সরকার, যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। তখন ১১টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে, ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বিধিনিষেধের মেয়াদ ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।