মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় স্কুল মিল নীতিসহ ৭ সিদ্ধান্ত অনুমোদন

8

দীর্ঘ সাত সপ্তাহ পর বৈঠকে বসে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া আর দুটি আইনের খসড়া, একটি নীতিমালা ও দুটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সাত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
এর আগে, গত ২৪ জুন মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন : বৈঠকের শুরুতেই চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর অনুমোদন পাওয়া এই খসড়া আইন অনুযায়ী, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরও চ্যান্সেলর থাকবেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাবিদসহ ১৩ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটও থাকবে।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন : সামরিক সরকারের আমলে প্রণয়ন করা চালনা বন্দর অধ্যাদেশকে সময়োপযোগী করে আইনে পরিণত করতে ‘মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৯’ নামে একটি খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সংশোধনীর পর খসড়ায় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও ছয় সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। বন্দর এলাকাকে প্রয়োজনে সংরক্ষিত ঘোষণার ক্ষমতায় দেয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। খসড়া এই আইনে কোনো ব্যক্তির আইন বা বিধি লঙ্ঘনের জন্য ৬ মাসের কারাদ- ও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। টোল বন্দর এলাকার মধ্যে পরিবেশ দূষণের জন্য একবছর কারাদ- ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আর টোল ফাঁকিতে এক মাস কারাদ- ও ১ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
জাতীয় স্কুল মিল নীতি : দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে খাবার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি’ নামে একটি আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতির আওতায় ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালা : প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা দেয়ার নামে যেখানে সেখানে যেন মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে না পারে, তার জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করছে সরকার। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সম্পর্কিত সমন্বিত / বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালার খসড়া’য় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় জেলা-উপজেলা ও সেনানিবাস এলাকায় ১৩ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে থানা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে কমিটি প্রধান হবেন।
দুই কোম্পানির প্রস্তাবে অনুমোদন : সরকারি মালিকানাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) ও চীনের বেসরকারি কোম্পানি শেনজেন স্টার ইনস্ট্রুমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ পাওয়ার ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কোম্পানি প্রিপেইড মিটার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) আওতায় ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে আরেকটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়াও গতকাল সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা আইন শীর্ষক একটি আইনের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খবর এফএনএস।