মন্ডপে মন্ডপে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২২ টি মন্ডপে উদযাপিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

114

DSC03075 2 (Custom)

আর কদিন পরই হিন্দু সম্প্রদয়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পুজা। শুরু হয়ে গেছে হাতের কোড় গনা, মন্ডপ গুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। অন্যদিকে মাকে বরণে হিন্দু পরিবারগুলোতে চলছে শেষ মহূর্তের প্রস্তুতি। জেলায় এবার ১২২ টি পুজা মন্ডপে শারদীয় দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বিঘে এই উৎসব সম্পন্ন করতে আইনশৃঙখলা বাহিনী থাকছে সজাগ।
বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুড়ি পাড়া ঝংকার সংঘ, হুজরাপুর এলাকার জোড়ামট, রেল স্টেশন এলাকার শ্রী শ্রী গঙ্গামাতা মন্দিরসহ বেশ কিছু পুজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে, কোন কোন মন্দিরে মাটির দুই দফা কাজ শেষ করে ফেলেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। এখন শুধু রঙয়ের কাজ বাকী।
শহরের রেল স্টেশন এলাকার শ্রী শ্রী গঙ্গা মাতা মন্দিরে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন প্রদীপ পাল নামে এক প্রতিমা শিল্পী। তার সাথে কাজ করছেন আরো ৩জন। সজিব পাল নামে এক ৯ বছরের শিশু শিল্পীও প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন। প্রদীপ পাল জানান, বংশ পরম্পরায় তারা প্রতিমা তৈরীর কাজ করে থাকেন। তার দাদাও এই কাজ করতেন, তিনি বাবার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছেন, এখন প্রতিমা তৈরীর কাজ করেন। তিনি জানালেন এই বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারোঘরিয়ার ২২ পুতুলসহ ১২ টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন তারা। অধিকাংশ মন্দিরে প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে এনেছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে রঙয়ের কাজ শুরু করবেন বলে জানান এই প্রতিমা শিল্পী।
রেল স্টেশন এলাকার শ্রী শ্রী গঙ্গা মাতা মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ শ্রী জেন্টু কুমার জানান, এই বছর প্রতিমা তৈরীতে গত বছরের থেকে বেশি খরচ হচ্ছে তাদের। এই বছর তারা প্রায় ৭০ হাজার টাকা বাজেট ধরেছেন পুজোর জন্য। এর মধ্যে প্রতিমা শিল্পীদের সন্মনী ১২ হাজার, ডেকোরেশন খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা মত হবে, এছাড়াও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৭০-৭৫ হাজার টাকা লেগে যাবে। তিনি বলেন জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এবছরও কিছু অনুদান পাবেন, এছাড়া ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান হয়ে যাবে।
পুজো যেন ছোটদের। কখন শুরু হবে পুজো এ নিয়ে যেন তোড় সইছে না তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল স্কুলের ছাত্র দুই বন্ধু দেবকান্ত ও সৌরভ দাসের। তাই সকালে প্রাইভেট পড়ে শহরের উদয় সংঘ মোড়ের মন্দিরে পুজো দেখতে চলে এসেছে তারা। এসময় সৌরভ জানায়- পুজোতে আমরা অনেক আনন্দ করব, মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে পুজো দেখব, বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যাব।
পুজোকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদয়ের পরিবার গুলোতে চলছে প্রস্তুতি। শহরের উদয় সংঘ এলাকার শ্রী রাজন শাহা জানালেন, দূর্গা পুজাকে ঘিরে এখন ঘরদোর ঝাড়া মোছার কাজ চলছে, এছাড়াও পুজোর অন্যতম খাবার বিভিন্ন পদের নাড়–, মুড়কি তৈরীর উপকরণ এরই মধ্যে কিনে এনেছেন তিনি, কিন্তু এই সব খাবার তৈরীর কাজ শুরু হবে পুজোর দুই- তিনদিন আগে।
পুজো মানেই তো নতুন পোশাক, তাই সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন সবাই। মৌটুসী চৌধুরী নামে একজন জানান, পুজোর কেনাকাটা প্রায় শেষ করে ফেলেছি। আশাকরি এবারের পুজোতে অনেক আনন্দ করতে পারব।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুজা উযদাপন কমিটির সভাপতি মহিত কুমার দাঁ জানান, জেলার সবগুলো পুজো মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর মাটির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, এখন শুধু রঙয়ের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ১২ অক্টবর মহালয়ার মাধ্যমে পুজোর ক্ষন গণনা শুরু হবে, মা এই দিন আগমন করবেন। এর সাত দিন পর ১৯ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী পুজার মাধ্যমে শুরু হবে পুজোর মুল আনুষ্ঠানিকতা। এর পর ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সপ্তমী, বুধবার অষ্টমী, ও সন্ধীপুজা, ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নবমী ও দশমী পুজা অনুষ্ঠিত হবে। আর পরদিন ২৩ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় উৎসব।
তিনি বলেন, পুজোর এই কটা দিন আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির মধ্য দিয়ে সবাই মিলে উৎসব করব। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে বুধবার পুজা উৎযাপন কমিটির সাথে জেলা প্রশাসনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভা থেকে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে এবার শারদীয় দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে সংসিøষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। তিনি গৌড় বাংলাকে জানান, এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২২ টি পুজামন্ডপে শারদীয় দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার বশির আহম্মদ পিপিএম বলেন- প্রতিটি পুজা মন্ডপে ২ জন পুলিশ, ১০ জন আনসার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে এর সংখ্যা আরো বাড়বে। এছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নরজদারি থাকবে, থাকবে মোবাইল টীম এবং ব্যাবের টহল। এছাড়াও সীমান্ত এলাকার পুজা মন্ডপে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক নজরদারি থাকবে বলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জানান।