মঞ্চে ‘তরঙ্গিনী’ রূপে ফারহানা মিলি

3

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের নন্দিত অভিনেত্রী ফারহানা মিলি। একজন অভিনেত্রী হবার স্বপ্নে বিভোর থেকে ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী হবার সকল নিয়ম কানুন, শৃঙ্খলা মেনেই অভিনয়ের দুনিয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তার হঠাৎ করেই একজন অভিনেত্রী হয়ে উঠা নয়। নিজেকে মঞ্চে সম্পৃক্ত করে অভিনয়ে পাকাপোক্ত হয়েই নাটকে, সিনেমাতে অভিনয় করেছেন এমনকী বিজ্ঞাপনেও তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৯৫ সালে ‘কিশোর থিয়েটার’র হয়ে ‘পিপলস থিয়েটার’ আয়োজিত শিশু নাট্যোৎসবে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। সেই থেকে আজ অবধি (মাঝে বিরতির পর) মঞ্চ নাটকের সাথে সম্পৃক্ত নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে। ‘লোকনাট্য দল’র অন্যতম সফল প্রযোজনা ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’র মঞ্চায়ন আজ থেকে ২৫ বছররেও বেশি আগে শেষবার মঞ্চায়িত হয়। বুদ্ধদেব বসু রচিত ও লিয়াকত আলী লাকী নির্দেশিত এই নাটকটি গেলো পাঁচ বছর যাবত মঞ্চে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই প্রস্তুতিরই চুড়ান্ত পর্যায় চলে এসেছে এই মুহুর্তে। আগামী ৫ জুন ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’র টেকন্যিকাল শো অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর সেগুন বাগিচার শিল্পকলায়। এর আগে ‘তরঙ্গিনী’ চরিত্রে আরো বেশ কয়েকজন মঞ্চে অভিনয় করেছেন। এবার ‘তরঙ্গিনী’রূপে মঞ্চে দেখা যাবে ফারহানা মিলিকে। মিলি টিভি নাটকে অভিনয়, বিজ্ঞাপনের কাজ ও উপস্থাপনার পাশাপাশি মঞ্চটাকে আবার আঁকড়ে ধরেছেন। মঞ্চেই আবার নিজের মনের মতো করে সময় দিতে চাইছেন তিনি। যে কারণে ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’র জন্য তিনি যথেষ্ট সময় দেবারও চেষ্টা করছেন। যাদের সঙ্গে মঞ্চে এখন নিয়মিত কাজ করছেন মিলি, তারাও তাকে বেশ অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। বিশেষত মিলি’র মা রানা আঞ্জুমান মঞ্চে কাজ করার ব্যাপারে সেই ছোট্টবেলার মতোই এখনো অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন।
আবারও মঞ্চে কাজ করা প্রসঙ্গে ফারহানা মিলি বলেন, ‘মঞ্চ থেকেই আমার আসা, অভিনেত্রী হিসেবে মঞ্চেই আমার জন্ম। যখন আমি অভিনয়ের জন্য মঞ্চে দাঁড়াই তখন মনে হয় এটাই তো আমার আসল ঠিকানা, আমার কাছে মনে হয় সবচাইতে শান্তির জায়গা মঞ্চ। মঞ্চ থেকে দূরে আমি কখনোই ছিলাম না। কাছাকাছিই ছিলাম, কিন্তু সবমিলিয়ে সময় বের করা হয়ে উঠত না। কিন্তু লাকী স্যারের মাধ্যমে আবারও মঞ্চে তরঙ্গিনী’রূপে দর্শকের মধ্যে উপস্থিত হতে যাচ্ছি, এটা আমার কাছে অনেক বড় এবং ভীষণ গুরুত্ব বহন করছে। ভীষণ ভালো লাগছে। মঞ্চের প্রতি আমার যে কত্তোটা ভালোবাসা, তা রিহার্সেলের জন্য মঞ্চে দাঁড়ালেই তা অনুভব করি। মঞ্চ আমার প্রাণের জায়গা।’
মিলি জানান ‘লোকনাট্য দল’র হয়ে তিনি ‘সিদ্ধিদাতা’,‘ মধুমালা’, ‘কঞ্জুস’ নাটকে অভিনয় করছেন। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নাটক ও নাট্যতত্ত্ব’ বিভাগে পড়ার সময়ও তিনি ‘ক্যালিগুলা’, ‘হাত বাড়িয়ে দাও’, ‘কাঁদো নদী কাঁদো’, ‘মীমাংচিনা’, ‘যৈবতী কন্যার মন’ মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন।