ভোলাহাটে পলু পোকায় অজানা রোগ ঃ ক্ষতির মুখে চাষীরা

406

photo-01রেশম খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় পলু পোকায় অচেনা রোগ দেখা দিয়েছে। বহু চাষীর পলু পোকা অচেনা রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে মারা গেছে। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষীরা।
ভোলাহাট উপজেলার সিংহভাগ মানুষ রেশম চাষের উপর নির্ভরশীল ছিলেন এক সময়। কিন্তু বিদেশী রেশম সুতা বাংলাদেশের বাজার দখল করায় এখানকার চাষীরা রেশম চাষ ছেড়ে বিভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে। কিন্তু নানা প্রতিকুলতার মাঝেও বেশ কিছু পরিবার এখনও এ পেশায় থেকে জীবীকা নির্বাহ করছে। তবে ভোলাহাটে উৎপাদিত রেশম সুতার দাম কম পাওয়ায় তারা দিন দিন পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এক দিকে রেশমের কম দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তা আছে, তার উপর অগ্রণী বন্দে (চলতি মৌসুমে) অচেনা রোগে পলু পোকা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। ফলে গুটি তৈরীর স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে চাষীদের।
জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড ভোলাহাট জোনের আওতায় মোট ১শ’ ৪৩ জন পলু চাষীর মাঝে ১৫ হাজার ৪ শ’ ডিম সরবরাহ করা হয়। সেই ডিম থেকে পলু পোকা বড় হয়ে গুটি তৈরী শুরু করার উপযোগী হয়ে উঠে। এমন মূহুর্তে পোকাগুলো মোটাতাজা না হয়ে শুকিয়ে ছোট হয়ে মারা যাচ্ছে। এতে রেশম চাষীরা চরম বিপাকে পড়েছে।
ধরমপুর গ্রামের রেশম চাষী তসলিম উদ্দিন, আফসার আলী ও আব্দুল কাদির, চরধরমপুর গ্রামের শমুরুদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, বজরাটেক গ্রামের সিদ্দিক জানান, রেশম বোর্ড থেকে সরবরাহকৃত ডিম ছিলো ক্রটিপূর্ণ ফলে এ অচেনা রোগ দেখা দিয়েছে। এতে রেশম চাষীরা একটি টাকারও মুখ দেখতে পাবে না। বরং ৩ বন্দে রেশমচাষীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। ফলে বড় ধরণের আর্থীক ক্ষতির মুখে রেশম চাষীদের পড়তে হবে। ফলে রেশম চাষীরা রেশম চাষে আরও আগ্রহ হারাবে এবং ঋণের টাকাও শোধ করতে পারবে না। এর পূর্বেও জ্যৈষ্ঠ ও ভাদ্রী বন্দেও একই ভাবে রেশম পোকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা জানান, প্রতিজন চাষীর মাথা প্রতি ৩০/৪০ হাজার টাকা ঋণের দায় চেপে আছে।
ভোলাহাট রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানান, সরবরাহকৃত ১৫ হাজার ৪ শ’ ডিম থেকে রেশম চাষীরা প্রায় ৩৮ লাখ টাকা আয় করতেন। এ অচেনা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের ক্ষতি হবে।
রেশম বোর্ড কর্তৃপক্ষ সিনিয়ার রির্সোস অফিসার মুনসুর আলীকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত টিম গঠন করে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তদন্ত টিমের আহবায়ক মুনসুর আলী জানান, ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে অগ্রণি বন্দে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে পরিদর্শন শেষে অচেনা রোগের কারণ সনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। এদিকে রেশম চাষীরা তাদের ক্ষতি কি ভাবে পোশাবে এ ব্যাপারে সংশি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা।