ভোলাহাটে দোকান্দারী করেই চলছে শিশু সমিরার পড়া-লেখা

121

pic 04 (Small)

ছোট্ট জীবন থেকেই যুদ্ধ করে দরিদ্র পরিবারের শিশু সমিরা লেখা চালিয়ে যাচ্ছে। পানের দোকানে বসে বই-খাতা নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে পড়া-লেখা আর সামান্য আয় করে পরিবারের অভাবি সংসারে খরচ যোগাচ্ছে। ক’দিন পূর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ইমানগর বাজারে একটা পান খাওয়ার জন্য জোড়াতালি দিয়ে তৈরী খুপড়ি একটি পানের দোকানে যানস্থানীয় ২ সংবাদ কর্মী । পানের দোকানে দেখা যায় স্কুল ড্রেস পরা ছোট্ট এজন মেয়ে দোকানদারী করছে এবং ক্রেতাকে পান তৈরী করে দিচ্ছে। সেখানে দেখা যায় পানের দোকানের টেবিলে এক গাদা বই-খাতা অপর পাশে পান সাজানো। বই-খাতা আর স্কুল ড্রেস পড়া দেখে কৌতুহল বশে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কোন ক্লাসে পড়া-লেখা করো। উত্তরে সে জানায়, ইমামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে সে পড়াশোনা করে। রোল নম্বরের কথা জানতে চাইলে সে জানায়, ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২য়। দরিদ্র পিতা রেজুয়ান আলী সংসারের অভাবের তাড়নায় মানুষের কামলা খাটে। ছোট্ট এ শিশু সমিরা খাতুন তার পড়া-লেখা হবে না চিন্তা করে বাবার এ ছোট দোকানে বসে বই-খাতা নিয়ে পড়ে আর পানসহ অন্যান্য টুকিটাকি জিনিস বিক্রি করে। স্কুলের ক্লাসের সময় দুপুরে টিফিন হলে দৌড়ে এসে দোকানে বসে পান বিক্রয় করে। এর ফাঁকেই সে টিফিন সেরে ফেলে। সমিরা পানের দোকানে বসে থেকে ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২য় স্থান অধিকার করেছে। আর সে এর চেয়ে ভালো কোন সুযোগ-সুবিধে পেলে আরো ভালো করার সুযোগ করতে পারতো বলে জানায়। তবে যত সংগ্রাম করে হোক সহজে হাল ছাড়বে না, পড়া-লেখা চালিয়ে যাবে সে। তবে কোন স্ব-হৃদয় ব্যক্তি পাশে দাঁড়ালে জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ছোট্ট এ শিশুটি। ছাত্রী সমিরার ব্যাপারে ইমামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, সমিরা যদি পড়া-লেখার ভালো কোন সুযোগ পায় তবে উপজেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করতে সক্ষম হবে। ভুপেন হাজারিকার গানের মত বলতে হয়, মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না। আসুন না আমরাও একটু ইচ্ছা করি, এই ৫ম শ্রেণিতে পড়–য়া ছোট্ট মেয়েটির জন্য যে কোন সহায়তা নিয়ে তার পাশে এসে দাঁড়াই। দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।