ভোলাহাটে দেরিতে পাকায় বাজারে কম আসছে আম

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন। আর আম চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকে নামার আশঙ্কা করছেন আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা।
এদিক আম উৎপাদন কম হওয়ায় এখনো জমে ওঠেনি উপজেলার একমাত্র ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের বাজারটি। অথচ এ সময়ে আমবাজারটি গমগম করার কথা ছিল। গত ২৭ মে আম ফাউন্ডেশনের বাজার উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, ভোলাহাট উপজেলায় খিরসাপাত, গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা, হাডিভাঙ্গা, গুটিসহ প্রায় ১০০ জাতের আম উৎপাদন হয়ে থাকে।
সরেজমিন ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনের বাজারে দেখা যায়, আমের সরবরাহ খুবই কম। গত বছর এ সময় যে পরিমাণ আম বাজারজাত হয়েছে, এ বছর তা হয়নি।
আম ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মো. মৌদুদুর রহমান শাহ রনি বলেন, এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আম উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে গতবছরের তুলনায় এ বছর এখনো বাজারে আম আসছে না।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল বলেন, আম ফাউন্ডেশন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সঠিকভাবে আম আগে থেকে সরবরাহ করা হয়, এখনো হচ্ছে। কোনো প্রকার অবৈধ মালামাল বহন করার সুযোগ নেই। কেউ অবৈধ মালামাল বহন করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কোষাধ্যক্ষ মো. লাল দেওয়ান বলেন, এ বছর আম ফাউন্ডেশনে মোট ১০৬টি আড়ৎ রয়েছে। কয়েক দিন থেকে গোপালভোগ ২০০০ থেকে ২৫০০, খিরসাপাত ২০০০ থেকে ২৮০০, লক্ষণভোগ ৯৫০ থেকে ১২০০, গুটি ১০০০ থেকে ১৬০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৩ দিন থেকে প্রতিদিন মাত্র ৬৪০ মণ আম কেনাবেচা হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক হবে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর আম উৎপাদন কম হওয়ায় ভোলাহাটের একমাত্র আমবাজারে আম কম আসছে বলে মনে করছেন স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুলতান আলী বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে এ বছর আম দেরিতে পাকা শুরু করেছে। এছাড়া অফ ইয়ার এবং আমের উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে আম কম বেচা-বিক্রি হচ্ছে।