ভোলাহাটে গুচ্ছগ্রাম ঘর নির্মাণ উপকার ভোগীদের মাঝে হস্তান্তর

29

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের বাইসাপুকুর গুচ্ছগ্রামে নবনির্মিত ৪০টি ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ৪০ জন ভূমিহীন পরিবারের নিকট ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। এ সময় ভূমিহীন মানুষগুলোর চোখে মুখে আনন্দের ঝিলেক ফুটে উঠে।
জেলা প্রশাসক বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। তারই অংশ হিসেবে বাইসাপুকুরের এই ৪০টি পরিবারকে জমি দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিয়ে আজ পুনর্বাসন করা হলো। তারা এতদিন অন্ধকারে ছিল। এখন থেকে এই পরিবাগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ধারায় প্রবেশ করল। শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। মূল সড়ক থেকে বাইসাপুকুর পর্যন্ত অচিরেই একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসক বলেন।
এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন- গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ। এই উদ্যোগের অংশ হচ্ছে ভোলাহাট বাইসাপুকুর গুচ্ছগ্রাম।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভোলাহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন, ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরমান হোসেন, ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন মন্ডল, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী শ্রী সুনীল কুমার ঘোষ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গরিবুল্লাহ দবির, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ খাতুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হুদা অলক।
এ গুচ্ছগ্রামে পুনর্বাসিত মোট পরিবারের সংখ্যা ৪০টি। এ প্রকল্পে গৃহ, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘর নির্মাণ খাতে ব্যয় হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। গুচ্ছগ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পের আওতায় ৩ শতক জমির ওপর ২ কক্ষবিশিষ্ট ১টি করে বাড়ি এবং প্রত্যেককে ১টি করে ল্যাট্রিন ও প্রতি ৪টি পরিবারের জন্য ১টি করে টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাইসাপুকুরটির চারদিকে ফসলের মাঠ। তারই মধ্যখানে একটি বিশাল সরকারি পুকুর। মূল সড়ক থেকে বেশ খানিকটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। সেই পুকুরের চার পাড়ে ৪০টি ভূমিহীন পরিবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোনোরকমে বসবাস করত। বিষয়টি জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সরকারিভাবে গুচ্ছগ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বতর্মানে ঘরগুলো নির্মাণ হওয়ায় প্রকৃতির মাঝে এক মনোরম পরিবেশ ফুটে উঠেছে।