ভিন্ন ধরনের গল্পে তারিন

124

07ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন নন্দিত অভিনেত্রী তারিন আহমেদ। তিনি তার অভিনীত প্রতিটি নাটকেই নিজের চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের ভিন্ন কিছু উপহার দিতে চেষ্টা করেন। গল্পের প্রয়োজনে কখনো প্রেমিকা, কখনো গৃহিণী, কখনো প্রতিবন্ধী তরুণীর ভূমিকায় নিজেকে সাবলীলভাবে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণে দর্শকও তার অভিনীত নাটক কিংবা টেলিছবি দর্শক সাদরে গ্রহণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তারিন একেবারেই ভিন্ন ধরনের একটি গল্পের নাটকে অভিনয় করলেন। শুধু তাই নয়, নাটকে তিনি এই প্রজন্মের একজন নবাগত অভিনেত্রীর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটকের নাম ‘আমার একলা আকাশ’। নাটকে তারিন অভিনয় করছেন আশা চরিত্রে এবং তারিনের মেয়ে ভাবনা চরিত্রে অভিনয় করছেন তাসনুভা তিশা। নাটকে তারিনের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করছেন মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় কৌশিক শংকর দাশ পরিচালিত এ নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে।
নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তারিন বলেন, ‘নাটকটির মূল ভাবনা কৌশিক দার কাছে শুনেই আমি কাজটি করতে আগ্রহী হয়েছি। অনেকেই মনে করতে পারেন, এই প্রজন্মের একজন অভিনেত্রীর মা চরিত্রে কেন অভিনয় করেছি। কিন্তু আমার কাছে সবসময়ই একটি বিষয় খুব স্পষ্ট, নাটকের গল্প এবং চরিত্র ভালো হলে আমি সব ধরনের চরিত্রে কাজ করতে প্রস্তুত। আমি মনে করি, এটি একটি সমসাময়িক গল্পের নাটক এবং আমাদের দেশের নারীরা এই নাটকে কিংবা আমার চরিত্রে নিজেদের খুঁজে পাবেন।’ তারিনের সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে তাসনুভা তিশা বলেন, ‘তারিন আপু অনেক উঁচুমাপের একজন অভিনেত্রী। তার সঙ্গে অভিনয় করতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। কৃতজ্ঞ কৌশিক দাদার প্রতি। সেই সঙ্গে তারিন আপুর প্রতিও কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে খুব সহযোগিতা করেছেন।’ নাটকটির মূল বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে নাটকটির পরিচালক বলেন, ‘এই সময়ে অনেক বিবাহিত মেয়েরই অল্প বয়সে স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সময় তার সংসার ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু সংসারের বাইরেও যে একটা জীবন আছে সেটাও তাদের দেখা উচিত। তবে একজন নারীর সংসারে কিংবা সংসারের বাইরের জীবনেই যে সুখ আছে শান্তি তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন বিষয়কে উপজীব্য করেই নাটকটির গল্প রচনা করেছেন নীলা মাহমুদ।’ পরিচালক আরও জানান, অচিরেই নাটকটি একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে। এদিকে, তারিন অভিনীত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘সানফ্লাওয়ার’ এনটিভিতে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে। এটি পরিচালনা করছেন নজরুল ইসলাম রাজু। এতে তারিনকে জয়া চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকে মেকানিকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। সানফ্লাওয়ার ধারাবাহিকে দেখা যাবেথ দেশের উত্তরপ্রান্তে হিমালয়ের পাদদেশের ছোট্ট ছিমছাম এক শহরের সাধারণ মেয়ে জয়া। বাবা-মা আর কলেজপড়ুয়া ছোট বোনকে নিয়ে জয়াদের সুখী পরিবার। ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের দোকানটাই তাদের একমাত্র অর্থ জোগানের উৎস। হঠাৎ চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিজের চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ মেটাতে বাবা গোপনে ব্যাংকের কাছে দোকান আর বাড়ি বন্ধক রাখে। মেকানিকের অভাবে সে দোকান যখন বন্ধের পথে, তখন নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেয় জয়া। ছোটবেলা থেকে বাবার কাছে শেখা বিদ্যা আর পলিটেকনিকে পড়াশোনার জোরে ব্যবসা আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। নিজেকে মেকানিক পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে সে। তবে মেয়ের মতো বাবার মনে দৃঢ়তা না থাকায় লোকের কথায় মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেলে এক দোজবরের সঙ্গে। ঘটনাক্রমে সেই বিয়ে ভেস্তে গিয়ে জয়া রক্ষা পায়, আবার পথ চলা শুরু হয়। চলতি পথে একদিন চৌধুরী বাড়ির বিদেশ ফেরত ছেলে সামিরের সঙ্গে পরিচয় হয়। জয়ার স্বপ্নকে আরেক ধাপ এগিয়ে দেয় সামির। দেশের নামকরা পত্রিকায় ইন্টারভিউ ছাপা হয় জয়ার। পরিচিতজনরা খুশি হলেও কিছু মানুষ মেনে নিতে পারে না জয়ার এই উত্থান। এদিকে, বন্ধকী সম্পত্তিতে সানফ্লাওয়ার ইলেক্ট্রনিক আর চালানো সম্ভব নয়, তাই ঢাকায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জয়া। শুরু হয় তার জীবনের কঠিন আরেক অধ্যায়। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এ ধারাবাহিকের গল্প। এ নাটক প্রসঙ্গে তারিনের ভাষ্য, অসাধারণ একটি স্ক্রিপ্ট। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে জয়া নিজেকে মেকানিকস হিসেবে গড়ে তোলে। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে মেয়েটির এগিয়ে যাওয়ার গল্পই বলছে সানফ্লাওয়ার ধারাবাহিকটি। এরই মধ্যে আমার অভিনীত জয়া চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে।’