ভাষা শিখে জাপান যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩০ তরুণ

265

জাপানি ভাষা শিখে এবং সেদেশের কৃষ্টিকালচার, শিষ্টাচার রপ্ত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩০ জন তরুণ জাপান যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২জন চলে গেছেন এবং আগামী নভেম্বর ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ২৮ জন চলে যাবেন। এইসব তরুণরা প্রথমে ৪ মাস এবং পরে ৬ মাসের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে সরকারিভাবে জাপান যাবার যাবার সুযোগ পেয়েছেন। আইএম জাপান নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে তারা আইটি সেক্টরসহ বিভিন্ন কাজের জন্য জাপান যাবার জন্য চূড়ান্তভাবে সুযোগ পেয়েছেন। তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)।
এউপলক্ষে শুক্রবার তাদেরকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টায় টিটিসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জাপান যাবার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহীন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। স্বাগত বক্তব্য দেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মো. মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে জাপানি রীতিতে অতিথিদের অভিবাদন জানান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এইসব তরুণরা।
সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহীন বলেন-জাপান এমন একটি দেশ যে দেশে দক্ষতা অর্জন ছাড়া যাওয়া যায় না। তবে আশার কথা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলেরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করে যাবার সুযোগ পেয়েছেন। আমি আশা করব যারা জাপান যাচ্ছেন, তারা নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করবেন এবং আপনাদের উপার্জিত অর্থ বৈধপথে দেশে পাঠাবেন। দেশের পতাকাকে সমূন্নত রাখবেন। আপনারা যখন দেশে ফিরবেন তখন জাপানের টেকনোলজি কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখবেন।
দেশে বিদেশে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সব সময় আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা চাই, যারা বিদেশ যাবেন তারা যেন দক্ষতা অর্জন করে যান। কেউ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত না হন এবং মানব পাচারের শিকার না হন।
বিমানবন্দরে বিদেশগামীদের হয়রানীর ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন-বিষয়টি আমাদের কাছেও এসেছে। আমরা বেসরকারি বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, বেসরকারি কর্তৃপক্ষ, কাস্টমসের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলছি। আমরাও চাই যেন আমাদের বিদেশগামী কর্মীরা বিমানবন্দরে হয়রানীর শিকার না হন। এ ব্যাপারে অনেকখানি উন্নতি হয়েছে। তবে এটি শেষ কথা নয়-আমরা সম্পূর্ণ হয়রানীমুক্ত সেবার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। শুধু তাই নয়-বিমানবন্দরগুলোয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেল্প ডেস্ক ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদান করে। এটির পরিধিও আমরা বৃদ্ধি করছি।
অপর প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। রোমানীয়ায় ইতোমধ্যে ৫ হাজার কর্মী প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রিসের সঙ্গে আমাদের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে ইতালির সঙ্গে হতে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যে গ্রিসে লোক যাওয়া শুরু হবে এবং ইতালিতে যাওয়ারও সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষক সাঈদি হোসেন, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষক ইমরান হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষকম-লি উপস্থিত ছিলেন।