ভাটির আগে উজানের ঢেউ সালমান শাহ: শাকিব খান

4

ক্ষণজন্মা কিন্তু তুলনায় সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার নাম সালমান শাহ। তার অকাল প্রস্থানের ২৫ বছর পেরুলো। সময় গড়ালেও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। বরং দিনকে দিন এর দ্যুতি আরও ছড়িয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রের এই বরপুত্র ছিলেন অনেক অভিনেতারই আদর্শ। তার এই মহাপ্রস্থানের দিনে তাকে স্মরণ করেছেন তেমনই একজন- শাকিব খান। তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেছেন নিজের কথাটুকু। বলেন, ‘‘একজন শিল্পীর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে তার অনুসারীরা ভুলতে শুরু করেন। তবে ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর ক্ষেত্রে সেটা একেবারে বিপরীত! অকালে চলে যাওয়ার ২৫ বছর পরেও তার জনপ্রিয়তা আজও আকাশচুম্বী। ৯০’ দশকে চলচ্চিত্রে সালমান শাহ’র আবির্ভাব তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল। ভক্তদের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের মানুষরাও তার স্মৃতিগুলো এখনও লালন করেন। তাই আমার কাছে সালমান শাহ হলেন ভাটির আগে উজানের ঢেউ। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো চলচ্চিত্র মাধ্যমটি আরও বর্ণিল করতে পারতেন।’’ নিজের প্রসঙ্গেও বলেছেন শাকিব, ‘‘শিল্পীর ভালো কাজের জন্য অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয়। অনুপ্রেরণা থেকে শিল্পীরা নিজেদের সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেন। সালমান শাহ’র অভিনয় দেখে, তার সিনেমা দেখে আমারও সেই অনুপ্রেরণা হতো! একটা প্রজন্মের কাছে আইডলে পরিণত হয়েছিলেন সালমান শাহ নামের সেই পরশ পাথর, যার ছোঁয়ায় বাংলা চলচ্চিত্রে বিপ্লব ঘটেছিল। তিনি আমাদের চলচ্চিত্রের এমন ধ্রুবতারা; যিনি দূর আকাশে অবস্থান করেও আলোকিত করেন মানুষের হৃদয়। তার মৃত্যুদিন এলে তাই স্বভাবতই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। আবার কিছুদিন পরেই আসে তার জন্মদিন; তখন আবার এই ভেবে ভালো লাগে যে সালমান শাহ স্বল্পায়ু হলেও অন্তত বাংলাদেশে জন্মেছিলেন সেটাই আমাদের সৌভাগ্য।’’ ১৯৯৬ সালের এই দিনে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমান শাহ’র লাশ। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরে অপমৃত্যু নয়, বরং হত্যা করা হয়েছে তার ছেলেকেÑএ প্রশ্ন তুলে তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার সুরাহা হয়নি আজও। ৯০ দশকের শ্রেষ্ঠতম নায়ক সালমানের প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। এ অভিনেতা মাত্র ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার বেশিরভাগই ছিল তুমুল জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল। মাত্র তিন বছরের অভিনয় জীবনে এতটা দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেওয়ার ইতিহাস বিরল। ১৯৯৩ সালে সালমান অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায়। এরপর থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে ভরসার প্রতিশব্দ হয়ে ওঠেন এ নায়ক।