ভলিবলে হেরেই চলেছে বাংলাদেশ দল

0

প্রথম সেটে অসহায় আত্মসমর্পণ। পরের দুই সেটে কিছুটা লড়াই করলেন পান্না-সাবিনারা। কিন্তু আরেকটি হার এড়ানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না মোটেও। বঙ্গমাতা এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন উইমেন্স ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে এবার নেপালের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে শনিবার নেপালের বিপক্ষে ৩-০ সেটে উড়ে যায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী ম্যাচে কিরগিজস্তানের কাছে ৩-০ সেটে হারের পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষেও সরাসরি সেটে হেরেছিল স্বাগতিকরা। প্রথম সেটে সার্ভ, অ্যাটাকে বিবর্ণ বাংলাদেশ হেরে যায় ২৫-৫ ব্যবধানে।

দ্বিতীয় সেটে কিছুটা লড়াই করে হার মানে ২৫-১৫ পয়েন্টে। তৃতীয় সেটে মেয়েদের খেলায় আরেকটু উন্নতি হলো বটে, কিন্তু হার এড়ানোর জন্য তা মোটেও যথেষ্ট ছিল না। ২৫-১৭ পয়েন্টে হেরে যায় দল। ২০১৯ সালে কাঠমান্ডু-পোখারার দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে সরাসরি সেটে উড়ে গিয়েছিল মেয়েরা। সেবার তিন সেট যথাক্রমে ২৫-৯, ২৫-৯, ২৫-১১ সেটে হেরেছিল দল। এবার হারলেও নেপালের বিপক্ষে পয়েন্ট বেশি পাওয়ার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি খুঁজে নিচ্ছেন মেয়েদের কোচ মফিজুল ইসলাম। “আগের চেয়ে মেয়েদের খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। গত এসএ গেমসে আমরা নেপালের কাছে যেভাবে হেরেছি, এবার তার চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছি।” “দীর্ঘদিন মেয়েরা খেলার মধ্যে ছিল না।

এই টুর্নামেন্টের আগে আমরা মাত্র দেড় মাস অনুশীলন করেছি। তবে আমি মনে করি, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আশা করি, এ টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোয় খেলার আরও উন্নতি হবে।” মেয়েদের বর্তমান দলের ১৪ জনের ১০ জন আনসার ও ভিডিপির খেলোয়াড়। অনেকে আবার পুরোদস্তুর ভলিবল খেলোয়াড়ও নন। যেমন, পান্না ঘোষ ক্রিকেটার, ডলি আক্তার সাঁতারু, সোহেলী আক্তার ডিউ বল ও ক্রিকেট খেলেন, মিম্মি খাতুন খেলেন রক বল।

ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু জানালেন জেলা ও বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তুলে এনে ‘পেশাদার’ জাতীয় দল গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। “তিন বছর আগে আমরা মেয়েদের উইং তৈরি করেছে। এরইমধ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে জেলা পর্যায় ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের। সেখান থেকে খেলোয়াড় তুলে এনে তাদের পরিচর্যা করা হবে এবং তাদেরকে নিয়ে জাতীয় দল গড়া হবে।” “বাস্তবতা মানতে হবে আমাদের। ভলিবল খেলাকে মেয়েরা পেশা হিসেবে নেবে, এই পরিস্থিতি আমাদের এখনও হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি, ছেলেদের মতো মেয়েদের দলটাকে আরও ভালোভাবে দাঁড় করানোর। মেয়েদের জন্য রাশিয়া অঞ্চল থেকে কোচ আনার চেষ্টাও করছি আমরা।”