বয়সকে হার মানিয়ে আনন্দে মাতলেন ৮৬’র বন্ধুরা

11

স্কুলজীবনের গণ্ডি পার হয়ে এসেছেন পঁয়ত্রিশ বছর। বিবাহিত সকলেই জনক-জননী হয়েছেন। কেউবা হয়ে গেছেন নানি। কিন্তু স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব, সেটা প্রগাঢ়ই রয়ে গেছে। আর তাই তো স্কুলজীবনের সোঁদা মাটির গন্ধ এখনো ধারণ করে চলেছেন প্রত্যেকের শরীরে। পঁয়ত্রিশ বছর আগের সেই জীবন যেন ফিরে এলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ টাউন ক্লাব (নবাবগঞ্জ ক্লাব) মিলনায়তনে।
বৃহস্পতিবার এখানে বসেছিল বন্ধুদের মিলনমেলা। এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এই বন্ধু আসরের আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বন্ধুরা।
মিলনমেলায় কাউকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তাদের বয়স হয়েছে। মেতে উঠলেন সেই স্কুলজীবনের মতোই। কেউ কেউ মেতে উঠলেন খুনসুঁটিতে। টিপ্পনি কাটা শুরু করেন কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীরাও। কারো কারো শরীরে নাচের অঙ্গভঙ্গিও ছিল। তবে একে অন্যকে আলিঙ্গন করতে ভুল করেননি কেউই। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস ছিল পরতে পরতে।
সকাল ১০টায় শুরু হয় রেজিস্ট্রেশন পর্ব। এরপর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে ৮৬’র বন্ধুরা। শোভাযাত্রা জেলাশহরের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন ক্লাব প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। বন্ধু আসরের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন ৮৬’র বন্ধুরাই। এরপর থিম সং।
স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বন্ধু আসর প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক মিথুন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেনÑ এসএসসি ব্যাচ-৮৬ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডমিন আশরাফুল হক সোহেল ও রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়কারী শাহনেওয়াজ রউফ অনু। উদ্বোধন ঘোষণা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধু আসর প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান এএম মেহেদুল ইসলাম। জেলার বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন আশরাফুল হক সোহেল, আবুল কালাম আজাদ রাজু, শাহনেওয়াজ রউফ অনু, সংগীতশিল্পী সাজ্জাদ হোসেন, প্রদীপ ও কানিজ ফাতেমা মিতু।
অনুষ্ঠানের সূচির বাঁধনে আটকে রাখা যায়নি বন্ধুদের। ফাঁকে ফাঁকেই স্মৃতিচারণ, কবিতা, গান পরিবেশন করেন বন্ধুরা। বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই বন্ধুদের নিয়েই বাঁধা গান গেয়ে শোনান মোস্তাফিজুর রহমান মাধু। দুপুরের ভোজনপর্বেও কথার ফুলঝুরি ছুটতে থাকে এ-টেবিল থেকে ও-টেবিল পর্যন্ত। কে কম খায়, কে বেশি খায়; তাও উঠে আসে।
গোলাম ফারুক মিথুন ও শাহনাজ পারভীনের সঞ্চালনায় স্মৃতির পসরা সাজিয়ে বসেন অনেকেই। এদের মধ্যে মফিজ উদ্দিন, আইনুল হক মনি ও দুই বোন শামসুন নাহার ও নুরুন নাহার রয়েছেন। খুনসুঁটি করা থেকে বিরত থাকেননি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ৮৬’র বন্ধু সামিউল হক লিটনও।
জাতীয় পর্যায়ে এসএসসি ব্যাচ ১৯৮৬ বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০২২ এর রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত আলোচনাও হয় বন্ধু আসরে। ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। এতে গম্ভীরা পরিবেশন করেন ৮৬’র বন্ধুরাই। শেষে ছিল র‌্যাফেল ড্র। তারপর সুখস্মৃতি নিয়ে আগামী দিনে আবারো একসঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রত্যয়ে বন্ধুরা ফিরতে থাকেন নিজ নিজ গন্তব্যে।