ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে এগিয়ে ঋষি সুনাক

6

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে মনোনয়নের সময় শেষের আগেই এমপি’দের সমর্থনের দিক দিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিবিসি জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) অনেক এমপি যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারা কাকে চান তা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে দলটির ৩৫৭ জন সদস্যের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০৪ জন তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১২৮ জন সুনাকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি ৫৩ জন ও হাউস অব কমন্সের নেতা পেনি মর্ডান্ট ২৩ জনের সমর্থন পেয়েছেন। যারা এখনও নিজেদের সর্মথনের কথা প্রকাশ করেননি তাদের অনেকেই রোববারের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার ব্রিটেনের স্থানীয় সময় দ্পুুর ২টার মধ্যে একজন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর প্রতি অন্তত ১০০ জন টোরি এমপি সমর্থন জানালে তিনি প্রার্থীতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। হাউস অব কমন্সে টোরি দলের এমপি সংখ্যা ৩৫৭ জন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাত্র তিন জন এ বাধা পেরোতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সুনাক অনেকটা এগিয়ে থাকলেও তিনি এখনও তার প্রার্থীতার ঘোষণা দেননি। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ছুটিতে থাকা জনসন তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে এলেও এখনও নিজের প্রার্থিতার ঘোষণা দেননি। শুধু পেনি মর্ডান্ট নিজের প্রার্থিতার কথা নিশ্চিত করেছেন। সুনাক ও জনসন শনিবার রাতে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তাদের নির্বাচনী শিবির তা প্রকাশ করেনি। জনসন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা সুনাককে দলের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম। লন্ডন টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, জনসন কনজারভেটিভ এমপিদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে একমাত্র তিনিই দলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন।

২০১৯ সালে ব্রিটেনের সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে জনসনের নেতৃত্বেই বড় ধরনের জয় পেয়েছিল কনজারভেটিভ পার্টি, তাই দলের সদস্য ও এমপিদের একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ আছে; তারা তাকে ‘জাতীয় নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে তুরুপের তাস’ মনে করে। মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দৌঁড়ে ঋষি সুনাককে হারিয়ে লিজ ট্রাস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনসনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। তখন ধারাবাহিক কয়েকটি কেলেঙ্কারির ঘটনার পর জনসন চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু তার বদলে ক্ষমতায় আসা ট্রাস দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর হ্রাস করার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষণস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের ৪৫ দিন পর পদত্যাগ করেন। এখন ট্রাস কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্ভবত আরও এক সপ্তাহ দায়িত্বপালন করবেন। গত শুক্রবারের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা ও নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।