ব্রিটিশ পার্লামেন্ট : টিউলিপকে স্পিকার এলেনর বকুনি

64

06

ব্রিটিশ পার্লমেন্টে বিতর্ক চলার সময় একটু বিরতি নেওয়ায় পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এলেনর লেইংয়ের বকা শুনতে হয়েছে বিরোধী দলের সদস্য সন্তানসম্ভবা টিউলিপ সিদ্দিককে। রক্ষণশীল দল থেকে নির্বাচিত এলেনর লেবার পার্টির এই এমপিকে বকা দেওয়ার সময় ‘নারী জাতির ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ’ করার জন্য দায়ী করেছেন বলে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রথমবারের মতো মা হতে যাওয়া ৩৩ বছর বয়সী টিউলিপ বিশ্রামের জন্য বিরতি নেওয়ার আগে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অধিবেশনে ছিলেন। ৪৫ মিনিট পর ফিরে এলে তাকে ডেকে পাঠিয়ে আরেকজন ‘হতবাক’ এমপির সামনে তার ওপর চড়াও হন লেইং। মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজে নারী হয়েও ডেপুটি স্পিকার পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপকে বলেন, আমাকে ‘গর্ভবতী হওয়ার অজুহাত’ দেখাবেন না; যদিও নিজের সাত মাসের গর্ভাবস্থার কথা বলেননি টিউলিপ। নিজের বক্তব্য দেওয়ার পর টিউলিপ পর্যাপ্ত সময় অধিবেশনে অবস্থান না করায় তার উপর ক্ষোভ দেখান ডেপুটি স্পিকার এলেনর লেইংয়ের । হাউজ অব কমন্সের ‘রীতি’ ও ‘বিধি’ অনুযায়ী, কেউ বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে আরও তিনজনের বক্তব্য শুনতে হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে ডেইলি মেইল বলেছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী টিউলিপ তার আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। টিউলিপ সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমার মনে হয়, এ ঘটনা প্রমাণ করল যে হাউজের বিধি-বিধান যে কারও জন্য পুরনো হয়ে গেছে। গর্ভবতী নারী বা অন্য মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার কথা বাদই দিলাম। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই কারও ছুটি নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। সমাজের অন্য জায়গায় এটা নিছকই সাধারণ বিবেচনার বিষয়।” বৃহস্পতিবার ‘ইউনিভার্সাল ক্রেডিট’ নিয়ে বিতর্কে অংশ নিতে স্থানীয় সময় সাড়ে ১২টায় অধিবেশনে যোগ দেন হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসনের নতুন এমপি টিউলিপ। হাউজের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বেলা পৌনে ৩টায় অধিবেশন ছাড়ার আগে আড়াইটায় বক্তব্য দেন তিনি। টিউলিপ বেরিয়ে আসার পর লেইং উপস্থিত এমপিদের বলেন, “হাউজের রীতি ও বিধান অনুযায়ী, কেউ বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে পরের জনের এবং সাধারণত আরও দুজনের বক্তব্য শুনতে হবে।” প্রায় ৪৫ মিনিট পর টিউলিপ ফিরলে তাকে কারণ দর্শানোর জন্য ডেকে পাঠান স্পিকারের চেয়ারে থাকা লেইং। উপস্থিত এমপিরা জানান, টিউলিপ ক্ষমা চেয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লেইং বারবারই তাকে বলতে থাকেন যে তার অধিবেশন ছাড়া উচিত হয়নি। ডেপুটি স্পিকারের উদ্ধৃতি দিয়ে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, “তুমি নারীর ভাবমর্যাদা নষ্ট করেছ। মানুষ এখন ভাববে, গর্ভবতী হয়েছে বলে নারীরা পার্লামেন্টের নিয়ম মানতে পারছে না।” “তিনি গর্ভবতী হওয়ার কথা উল্লেখ না করলেও ম্যাডাম ডেপুটি স্পিকার বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘ডোন্ট প্লে দ্য প্রেগনেন্সি কার্ড উইথ মি’।” ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করার বিষয়টি টিউলিপ বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ৫৭ বছর বয়সী ডেপুটি স্পিকার লেইং ১৯৯৭ সাল থেকে এসেক্স আসনে ক্ষমতাসীন টোরি দলের সদস্য। ২০০১ সালের নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর একমাত্র ছেলেকে জন্ম দেওয়ার ঠিক ১০ দিন পর হাউজ অফ কমন্স সভায় বক্তব্য দিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। তার ১০ মাস পর স্বামীর সঙ্গে ১৯ বছরের বিবাহিত জীবনের অবসান হয় লেইংয়ের।