বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাঁধে হাজার হাজার মামলার বোঝা

71

gourbangla logoদেশে কর্মরত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাঁধে মামলার বোঝা। বর্তমানে ২৯টি বেসরকারি ব্যাংকের অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা ২৮ হাজার ৬২৪টি। আর তাতে আটকে আছে ৫১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। তবে মামলায় শুধুমাত্র ব্যাংকগুলোর টাকা আটকে আছে তা নয়। বরং টাকা আদায়ের মামলা পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলোকে লোকবল নিয়োগ পাশাপাশি মামলাতে ব্যয়ও হচ্ছে প্রচুর। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মামলা রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) কাঁধে। ৬ হাজার ১২৬টি মামলায় ওই ব্যাংকের আটকে আছে ১ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে ইউসিবি। ৫ হাজার ২৫টি মামলায় ওই ব্যাংকের আটকে আছে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংকের ২ হাজার ৫৯টি মামলায় আটকে আছে ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের ১ হাজার ৪৪৫টি মামলায় আটকে রয়েছে ৬ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। পূবালী ব্যাংকের ১ হাজার ৩৭০টি মামলায় ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংকের ১ হাজার ২১৮টি মামলায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং আইএফআইসির ১ হাজার ১৩৩টি মামলায় এক হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা আটকে আছে। তাছাড়া সোস্যাল ইসলামীর ৯৮৯টি মামলায় ২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্সের (এনসিসি) ৮৯৬টি মামলায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইলের ৭৮৪টি মামলায় ২ হাজার ৫২ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকের ৬৭৭টি মামলায় ৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংকের ৬৬৭টি মামলায় ৮১৬ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৬৩৪টি মামলায় ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা, এবি ব্যাংকের ৫১৮টি মামলায় ৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫৯০টি মামলায় ১ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ৫২৯টি মামলায় ৪ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এই হিসাব চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ের। বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে তথ্য নিয়ে সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী প্রতিটি ব্যাংকের সব ধরনের মামলার সংখ্যা আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে অর্থঋণ আদালতে। ওই আদালতে মামলা রয়েছে ১৬ হাজার ৫৪১টি। রিট মামলা ১ হাজার ৬১৪টি, সার্টিফিকেট মামলা ১৮০টি, দেউলিয়া মামলা ৫৫টি এবং অন্যান্য মামলা আছে ১০ হাজার ২৩৪টি। ওই ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বাধিক রিট মামলা রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের। মোট ১৯৫টি। অর্থঋণ আদালতে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের। মোট ৪ হাজার ৯৭৩টি। সার্টিফিকেট মামলা সবচেয়ে বেশি উত্তরা ব্যাংকের। মোট সংখ্যা ৯৮টি। আর দেউলিয়া মামলা সবচেয়ে বেশি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের। মোট ১১টি। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কাঁধেও রয়েছে ১ হাজার ১৯৬টি মামলা। ওসব মামলায় জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। মামলাগুলোর মধ্যে সিআইবি সংক্রান্ত রিট মামলাই বেশি। মোট ৬০৬টি। সূত্র আরো জানায়, মূলত খেলাপি ঋণ আদায়ের শেষ হাতিয়ার হিসেবে অর্থঋণ আদালতে মামলা করে ব্যাংক। কখনো কখনো ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি না করার জন্যও আদালতে রিট মামলা করে। কৃষিঋণ আদায়ের জন্য করা হয় সার্টিফিকেট মামলা। আর কোনো গ্রাহক ঋণ নিয়ে আর পরিশোধ করতে না চাইলে অর্থ আদায়ের জন্য গ্রাহকের বিরুদ্ধে দেউলিয়া মামলাও করতে পারে ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলী রেজা ইফতেখার জানান, আমাদের ব্যাংকে মামলার সংখ্যা বেশি হলেও আটকে থাকা টাকার পরিমাণ তুলনামূলক কম। আমরা সাধারণত মামলা করতে চাই না। কিন্তু মামলা না করলে লোকজন টাকা দিতে চায় না। তাই মামলা করতে বাধ্য হই। তবে আমরা ৫০ হাজার টাকার নিচে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে মামলা করি না। বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবাদাতা ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। তাই ক্রেডিট কার্ডের খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলাও বেশি। তাছাড়া এসএমই ঋণও বেশি দেয়া হচ্ছে। ওসব ঋণও কিছু কিছু খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। তবে সব ধরনের মামলার খরচও এক রকম নয়। ছোট ঋণ আদায়ের মামলা পরিচালনার জন্য বড় আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। তাই মামলা বেশি হলেই যে খরচ বেশি হবে তা নয়। তবে মামলার পেছনে খরচ বেশি হলেও আদায়ও ভালো হচ্ছে। গতবছর আমরা অবলোপন করা ঋণ থেকে যে পরিমাণ অর্থ আদায় করেছি এবার তার দ্বিগুণ আদায় হবে বলে আশাবাদী।