বীরোচিত সংবর্ধনা পেল সাফ জয়ী নারী ফুটবল দল

9

ঢাকায় বীরোচিত সংবর্ধনা পেল সাফ জয়ী নারী ফুটবল দল। বুধবার বিমানবন্দরে অবতরণের পর গোটা দলকে কেক খাইয়ে ফুলের মালা পরিয়ে তাদের বরণ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।
কেক কেটে অধিনায়ক সাবিনা, কোচ ছোটন, ওমেন উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরনকে এ সময় কেক খাইয়ে দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। এরপর তাদের পরিয়ে দেয়া হয় ফুলের মালা।
এর আগে কাঠমান্ডুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকে মেয়েরা উদগ্রীব হয়েছিল দেশে ফেরার জন্য। অধিনায়ক সাবিনা সেখানে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। এর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একটি জয় নিয়ে দেশে ফিরছি। দারুণ উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে দেশবাসী। আমরাও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।’
বিমানে উঠার পরেই তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিমানে বারবার ঘোষণা আসতে থাকে, শিরোপা জয়ের জন্য বাংলাদেশ নারী দলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস জানতে থাকে। স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১টায় কাঠমান্ডুর ত্রিভুভন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৩৭২ বিমানটি। চলন্ত বিমানেই তাদের মিষ্টিমুখ করায় বিমান কর্তৃপক্ষ। এই সময় বিমানের ক্রুরাও মেয়েদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্দর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই আরেক দফা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সাফ বিজয়ী নারী ফুটবল দলের সদস্যরা।
বিমানবন্দরে নারী দলকে স্কট দিয়ে নিয়ে আসা হয় ভিআইপি লাউঞ্জে। সেখানেই তাদের বরণ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন আহমেদসহ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সেখানকার আনুষ্ঠানিকতা শেষ গণমাধ্যম কর্মীদের উপচেপড়া ভিড়ের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড়ের কারণে প- হয় পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন।
বিমানবন্দরে দারুণ অভ্যর্থনা পেয়ে অভিভূত বাংলাদেশ অধিনায়ক গর্বিত কণ্ঠে তাদের স্মরণীয় সাফল্য উৎসর্গ করেন দেশের মানুষকে। বিমানবন্দরেই প্রতিক্রিয়া জানান সাবিনাÑ “আমাদেরকে এত সুন্দর করে বরণ করে নেয়ার জন্য আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। মন্ত্রী মহোদয় ও ফেডারেশনের যারা এসেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের মেয়েদের, বাংলাদেশের ফুটবল যে আপনারা এত ভালোবাসেন, এসব দেখে আমরা অনেক অনেক গর্বিত। সবাইকে ধন্যবাদ, আমাদের জন্য দোয়া করবেন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ বলুন বা ১৮ কোটি কিংবা ২০ কোটি, এই ট্রফি বাংলাদেশের সব মানুষের।”
৮ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার সাবিনাই, আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন তিনি।
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে সাজিয়ে রাখা ছাদখোলা বাসে উঠে যান দলের সবাই। পথজুড়ে দুই পাশে দেখা যায় জনতার ভিড়। হাত নাড়িয়ে গলা ফাটিয়ে তারা অভিবাদন জানান মেয়েদের। ট্রফি উঁচিয়ে, জাতীয় পতকিা উড়িয়ে অভিনন্দনের জবাব দেন সাবিনারা।
সাফজয়ীদের নিয়ে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় ছাদখোলা বাসের শোভাযাত্রা। এ সময় তাদের ঘিরে রাখেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রাস্তার দুই পাশে সাফজয়ীদের দেখে জনগণ হাত নেড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন। সাবিনারাও হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখান।
চ্যাম্পিয়নদের বাসটি বিমানবন্দর থেকে কাকলী-বনানী পার হয়ে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যায়। তারপর বিজয় সরণি, তেজগাঁও হয়ে পুনরায় ফ্লাইওভার দিয়ে মৌচাক হয়ে কাকরাইলে আসে। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল-আরামবাগ। তারপর মতিঝিল শাপলা চত্বর ঘুরে পৌঁছায় বাফুফে ভবনে। সেখানে বাফুফে সভাপতি ও সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তাদের সংবর্ধনা দেন।
কত টাকা পাচ্ছে সাফ জয়ী নারী চ্যাম্পিয়নরা : ৫০ লাখ টাকা করে সাফজয়ী মেয়েদের ১ কোটি টাকা অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দুই সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। বিমানবন্দরে সাফজয়ী মেয়েদের বরণ করতে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দেন সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া।
সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম বাফুফে ভবনে অবস্থান করছিলেন মেয়েদের বরণ করে নেয়ার জন্য। সেখানে তিনিও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আরো ৫০ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে সকালেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মেয়েদের সাফ ফুটবলের সাফল্যে ৫০ লাখ টাকারই অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দেয়।