বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

108

chapainawabganj-picবীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে মহানন্দা ব্রিজ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠের শাহাদৎস্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জাসদ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হক, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের ভাগ্নে নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সোনামসজিদ প্রাঙ্গনে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধিস্থলে দুপুরে কোরআনখানি, ফাতেহা পাঠ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর দক্ষিণ তীরে রেহাইচর এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে বিজয়ের পূর্বক্ষণে ১৩ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মুক্ত করতে বারঘরিয়া এলাকায় মহানন্দা পাড়ে এসে উপস্থিত হন। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর তার বাহিনীকে ৩ ভাগে ভাগ করে শহরে ঢোকার পরিকল্পনা করেন। ১৪ ডিসেম্বর খুব ভোরের দিকে একটি ছোট নৌকায় তার দল নিয়ে মহনন্দা নদী পার হয়ে এসে রেহাইচর গ্রাম থেকে শত্রুদের লক্ষ্য করে গুলী বর্ষণ করতে করতে সামনের দিকে এগুতে থাকেন। ভোর বেলা শত্রুদের শেষ বাংকারে চার্জ করার সময় শত্রুর ছোঁড়া একটি বুলেট ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের কপালে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তার মরদেহ উদ্ধার করে ঐতিহাসিক সোনামসজিদে সমাহিত করা হয়। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সাহসিকতা ও রক্তের বিনিময়ে পাকিস্থানী হনাদার মুক্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ।