বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো কিয়েভ

4

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে সেখানে অন্তত দুইটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কিয়েভ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা পল অ্যাডামস জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পর মধ্য কিয়েভে অন্তত দুইটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের প্রায় ৯০ মিনিট আগে এয়ার রেইড সাইরেন বেজে উঠে বলে জানান তিনি। কিয়েভের মেয়র জানিয়েছেন, শহরের ঐতিহাসিক শেভেশেনকো এলাকাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে রুশ বাহিনী। এই এলাকাটিতে বহু ঐতিহাসিক স্থাপত্য রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে বহু সরকারি দপ্তর রয়েছে। পল অ্যাডামস জানিয়েছেন, টানা কয়েক মাস বিরতির পর এই প্রথমবারের মতো কিয়েভে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরণগুলোও অনেক বেশি জোরালো বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমন সময়ে কিয়েভ এ হামলা চালানো হলো যার মাত্র দুই দিন আগে গত শনিবার রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার একমাত্র সংযোগ সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা রুশ জাতীয়তাবাদীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। শনিবার সেতুটিতে হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনায় মস্কোর তরফে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি তুলতে শুরু করেন তারা। এর মধ্যেই গতকাল সোমবার সকালে কিয়েভে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কোনও কোনো ভাষ্যকার ইউক্রেনে রাশিয়ার সিরিজ ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় ক্রিমিয়া সেতুতে বিস্ফোরণকে ব্যক্তিগতভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জন্য অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করছেন। কেননা, ২০১৮ সালে পুতিন নিজেই এটি উদ্বোধন করেছিলেন। ক্রিমিয়া সেতুতে হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি ইউক্রেন। তবে এ ঘটনায় দেশটির উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। টুইটারে দেওয়া পোস্টে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সহযোগী মিখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, ‘ক্রিমিয়া সেতু দিয়ে শুরু। অবৈধ সবকিছু ধ্বংস করতে হবে, চুরি যাওয়া সবকিছু ইউক্রেনকে ফেরত দিতে হবে, রাশিয়ার দখলে থাকা সবকিছু তাদের ছাড়তে হবে।’