বিশ্ব রেকর্ডের খোঁজে ১২০ ঘণ্টার ফুটবল ম্যাচ!

51

07-hour-match

এ তো রীতিমতো ফুটবলের ধ্যানধারণাকেই পাল্টে দেওয়ার জোগাড়। ফুটবল খেলাটা কী? দুই দলে ২২ জন খেলোয়াড়, ৯০ মিনিট ধরে একটা বল নিয়ে ছুটবেন, যাদের গোল বেশি তারা জয়ীÑএই তো! কিন্তু ক্রিস্টোফার তোসেলি ও ব্রায়ান কারাসকোকে দেখুন, ৯০ মিনিটে যেন তাদের মন ভরছে না। শুধু দেড় ঘণ্টাই কেন, চিলির এই দুই ফুটবলার তো ছোটবেলার পাড়ার মাঠে সকাল-সন্ধ্যা নিয়মের বালাই না মানা সেই অবাধ ফুটবলের সময়সীমাও পেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আঁটছেন। একটা ফুটবল ম্যাচ খেলতে চাইছেন পুরো ১২০ ঘণ্টা জুড়ে! রীতিমতো পাগলামি মনে হচ্ছে? টানা পাঁচ দিন, এ-ও কী সম্ভব? আপাত এই অসম্ভবের পেছনেই ছুটছেন তোসেলি-কারাসকো। আসলে ছুটছেন বিশ্ব রেকর্ডের দিকে। চিলির আরও অনেক অপেশাদার ফুটবলারের সঙ্গে মিলে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ফুটবল রেকর্ডটা ভাঙতে চাইছেন দুজন। বর্তমান রেকর্ডটাও মাত্র বছর খানেক পুরোনো, গত বছর স্কটল্যান্ডে হয়েছিল ১০৫ ঘণ্টার ফুটবল ম্যাচ। সান্তিয়াগোর বাইসেন্টেনারি স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনের এই ফুটবল উৎসব শেষ হবে আগামী রোববার। আশ্চর্য হতে পারেন খেলোয়াড়ের সংখ্যা শুনেও, ‘মাত্র’ তিন হাজার। অবশ্য খুব কষ্ট করতে হবে না তাঁদের। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো হবে। তবে নিয়মও আছে, একজন খেলোয়াড় মাঠে নামলে তাঁকে কমপক্ষে এক ঘণ্টা খেলতেই হবে। রেকর্ডে নাম লেখানোর স্বপ্নে বিভোর তোসেলিরও এই ‘পাগলাটে’ ম্যাচের জন্য তর সইছে না। রয়টার্স টিভিকে চিলিয়ান গোলকিপার বলেছেন, ‘আমার কাছে তো এটাকে বেশ সুন্দর একটা চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে। একটু পাগলাটে, তবে আশা করি এই পাগলামিটা ঠিকভাবে শেষ করা যাবে।’ অবশ্য এমন ‘দৈর্ঘ্য’বিষয়ক রেকর্ড গড়ার অভ্যাস তোসেলির আছে। ২০০৭ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ক্লদিও তাফারেলের ৪৮৪ মিনিট জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে চিলিকে তৃতীয় স্থান এনে দেওয়ায় অবদান ছিল তাঁর ৪৯২ মিনিট গোল না-খাওয়া। অবশ্য যুবদল থেকে সিনিয়রদের দলে রাস্তাটা ঠিক চিনে উঠতে পারেননি ২৭ বছর বয়সী গোলকিপার। এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছেন মাত্র চারটি। এই ম্যারাথন ফুটবল ম্যাচে তাঁর সঙ্গী কারাসকোরও একই অবস্থা, ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারও ম্যাচ খেলেছেন মাত্র চারটি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা খুব বেশি দূর এগোয়নি, তবে রেকর্ড গড়ার ইচ্ছেটা এখনো রয়ে গেছে। রয়টার্স।