বিশ্ব বেতার দিবসঃ দুর্যোগ ও জরুরী আপদকালীন সময়ে রেডিও

186

Analog-tune1বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও’র সম্প্রচার কার্যক্রমের পথ চলা ও বিশ্ব বেতার দিবস উৎযাপন একই সময়ের গ্রন্থিতে বাধা। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বিশ্ব বেতার দিবস ১ম পালিত হয় আর ২০১১ এর মাঝামাঝি। জাতিসংঘ ঘোষিত “বিশ্ব বেতার দিবস ২০১৬” পালন হচ্ছে ১৩ই ফেব্রয়ারি। সেই থেকে সরকার ও দেশের সকল ধরনের বেতার দিবসটি উৎযাপন করে আসছে অনএয়ার অর্থাৎ বেতার অনুষ্ঠানে এবং অফএয়ারে অর্থাৎ সভা, সেমিনার, র‌্যালি বা রেডিও সম্প্রচারের বাইরে। আজ পঞ্চম বিশ্ব বেতার দিবস। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এ দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় “দূর্যোগ ও জরুরী অবস্থায় রেডিওর ভূমিকা” খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের প্রাচীনতম মিডিয়া, সহজলভ্য এবং সহজে বোধগম্য তথ্য প্রবাহের মাধ্যম হল বেতার। যুগের পরিক্রমায় নিকট অতিতে রেডিও কার্যক্রম খুবই সিমিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এফএম সম্প্রচার কার্যক্রম বেতার মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার পর বেতার যেন তাঁর হারানো যৌবন ফিরে পেয়েছে। অন্যদিকে, রেডিও শুনতে স্বাক্ষর হতে হয় না, মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় না, বরং কাজ করার সময়ও রেডিও শুনতে শুনতে কাজ করা যায়। অন্যদিকে সংবাদপত্র বা টেলিভিশনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। রেডিও দামেও সস্তা একসঙ্গে অনেকেই শুনতে পারেন, যে কোন জায়গায় বসে শোনা যায়, আলো-অন্ধকার সব অবস্থাই সাক্ষর-নিরক্ষর সবাই ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি বিদ্যুত না থাকলেও ব্যাটারি দিয়ে রেডিও শোনা যায়। সম্প্রচারের এলাকা বিবেচনা করলে একমাত্র রেডিওই বাংলাদেশের দূর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যত সহজে খবরাখবর পোঁছাতে পারে, অন্য মাধ্যমগুলো তা পারে না।

আগামীর বাংলাদেশ হবে রেডিও’র বাংলাদেশ। কেননা সরকার ইতোমধ্যে ২৮টি প্রাইভেট এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি এফএম রেডিও’র অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতার ১২টি আঞ্চলিক এবং ৩৫টি এফএম বেতার কেন্দ্র পরিচালনা করছে। আর অন্যদিকে এখন মানুষের হাতে হাতে রেডিও রয়েছে, মানুষ এখন মোবাইল ব্যবহার করতে অভ্যস্ত, আর সেই মোবাইলেই এফএম রেডিও শুনার অপসন আছে অথাৎ মানুষের হাতে হাতে রেডিও আছে।

প্রাইভেট এফএম রেডিও শহরাঞ্চলে ট্রাফিক খবরাখবর জানার জন্য মটর গাড়ীতে ও ছাত্র যুবকদের মাঝে সমানভাবে জনপ্রিয়। প্রাইভেট এফএম রেডিওগুলো ২৪ ঘন্টাই চালু আছে। অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কমিউনিটি রেডিও। বর্তমানে অনুমোদিত ৩২টি কমিউনিটি রেডিও’র মধ্যে সম্প্রচারে এসেছে ১৭টি কমিউনিটি রেডিও। প্রতিদিন এই রেডিওগুলো অবিরত ১২৫ ঘন্টারও বেশি সময় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। সারাদেশে ১০০০ জন যুবনারী ও যুবকের অংশগ্রহণে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ১৪টি জেলায় সর্বমোট ৬৮টি উপজেলার বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিও’র সুবিধা ভোগ করছেন। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন পর্যায়ে সর্বমোট ৫০০০ টি শ্রোতা ক্লাব শ্রোতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর অর্জন ইতোমধ্যে সকল মহলের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। যা বাংলাদেশে কমিউনিটি মিডিয়া বিকাশের জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এই ফলে বাংলাদেশে কমিউনিটি মিডিয়া সেক্টর আরো উৎসাহিতবোধ করছে।

সাম্প্রতিক ঘূর্নিঝড় ‘মহাসেন’ এবং ‘কমেন’ এর সময় উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত কমিউনিটি রেডিওগুলোর ভূমিকা সকল মহলে প্রশংসিত হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘূর্নিঝড়ের সর্বশেষ খবর জানার ক্ষেত্রে উপকূলের মানুষের প্রধান উৎস ছিল কমিউনিটি রেডিও। এছাড়াও বন্য দূর্যোগ কবলিত এলাকা যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, দেখা দেয় নানা রোগবালাই। আবার প্রাকৃতিক ঝড়, ভূমিকম্প, সুনামী, টর্ণেডো, খরা, জলোৎচ্ছাস, নদীভাঙন, অতি বৃষ্টি ও শীত, ব্রজ্রপাত, ভূমিধস জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রয়েছে যানবাহনের দূর্ঘটনা, অসর্তকতার আগুনসহ মানুষের তৈরি নানা দূর্যোগ বিষয়ক তথ্য এবং এমনকি জরুরী আপদকালীন সময়ে দ্রুত যথাসময়ে বা ধারাবাহিকভাবে রেডিও’র মাধ্যমে তথ্য প্রদান খুবই কার্যকর।

পরিশেষে বলব, জরুরী অবস্থা ও দূর্যোগকালীন সময়ে রেডিও সম্প্রচার তরঙ্গ ও প্রবেশাধিকার নিরাপদ ও কার্যক্ষম রাখার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যেন দূর্যোগের সময় রেডিও সম্প্রচার কোনভাবে বন্ধ হয়ে না যায়। কারন অন্য সব যোগাযোগ যখন বন্ধ হয়ে যায় বা সীমিত হয়ে পড়ে তখন কেবল রেডিওই প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে মানুষের জীবন নিরাপদ রাখতে পারে।