বিশ্বের সবচেয়ে হালকা ঘড়ি

73

19-640x399দ্য আর এম ৫০-০৩ মডেলের ঘড়িটি বিশ্বের সবচেয়ে হালকা যান্ত্রিক ঘড়ি।বিশ্বের সবচেয়ে হালকা যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করেছেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা। এটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রাফিন নামের বিশেষ উপাদান। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম উদ্ভাবিত উপাদান গ্রাফিন হচ্ছে এ পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে পাতলা উপাদান। এর নমনীয়তা ও শক্তির কারণে ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে শুরু করে মেডিকেলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা ঘড়িতে গ্রাফিন ব্যবহৃত হওয়ায় অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবমুক্ত করা ওই ঘড়ির ওজন ৪০ গ্রাম। ম্যানচেস্টার কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঘড়ি নির্মাতা ব্র্যান্ড রিচার্ড মিলি ও রেসিং টিম ম্যাকলারেন এফওয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে হালকা যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করা হয়েছে। ‘দ্য আর এম ৫০-০৩’ নামের ঘড়িটি তৈরিতে গ্রাফিন ব্যবহার করায় এটি হালকা হলেও মজবুত হয়েছে। গ্রাফিনের এই যৌগকে বলা হয় গ্রাফ টিপিটি, যা ঘড়ি তৈরিতে আগে ব্যবহৃত অন্য সব উপাদানের চেয়ে হালকা। ঘড়ির স্ট্র্যাপ তৈরিতেও গ্রাফিন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এর রাবারের সঙ্গে গ্রাফিন যুক্ত করে ঘড়ি মজবুত করা হয়েছে। গ্রাফিন নামের পদার্থটি মাত্র এক পরমাণু সমান পাতলা। স্বচ্ছতা কাচের মতো। কিন্তু এটি ইস্পাতের চেয়ে ১০০ গুণ দৃঢ় এবং তাপ ও বিদ্যুৎপরিবাহী হিসেবে অতি চমৎকার। গ্রাফিন আসলে বহুরূপী মৌল কার্বনের একটি ভিন্ন অবস্থামাত্র। এটি অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকে আমূল বদলে দিতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা। ২০০৪ সালে আবিষ্কৃত গ্রাফিন বর্তমান বিশ্বে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ কোষ, ইন্টারনেটের গতিবৃদ্ধির প্রযুক্তি, চিকিৎসাপ্রযুক্তিসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুষ্প্রাপ্যতা এবং জটিল ও ব্যয়বহুল উৎপাদনপদ্ধতির কারণে গ্রাফিনের ব্যবহার সীমিত রয়েছে। তথ্যসূত্র: আইএএনএস।