বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ ৮ জনের হাতে

72

gourbangla logoবিশ্বে অতি সম্পদশালী আর দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসাম্য বেড়েই চলেছে। বিশ্বের শীর্ষ আট ধনীর সম্পদের পরিমাণ দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর মোট সম্পদের সমান। অর্থাৎ এই আটজনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের ৩৬০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের সমান। অতি ধনীর সঙ্গে পৃথিবীর অর্ধেক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য এখন পূর্ব ধারণার চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
অক্সফাম বলছে, গেল এক বছরে অতি ধনী ও দরিদ্রতম ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়েছে। এই ব্যবধান কমাতে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তেই থাকবে। বৈষম্যের কারণে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হবে। রাজনৈতিক আলোড়ন বলতে গত বছর মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের সরে আসার বিষয়টি (ব্রেক্সিট) উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছে অক্সফাম।
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী উইনি বাইয়ানিমা বলেন, ‘এটা খুবই চিন্তার বিষয় যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ একেবারেই অল্প কিছু মানুষের হাতে রয়েছে। অথচ এখনো পৃথিবীর প্রতি ১০ জনের একজন মাত্র ২ ডলারে দিন চালায়। বৈষম্যের কারণে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়ছে। এটা আমাদের সমাজ ও গণতন্ত্রের মধ্যে ফাটল তৈরি করছে।
গত বছর অক্সফামের একই ধরনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৬২ জন অতি ধনীর হাতে রয়েছে পৃথিবীর অর্ধেক পরিমাণ সম্পদ। পরে তা ৯ জনে সংশোধন করে অক্সফাম।
এবার মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের ২০১৬ সালের ধনীর তালিকা ব্যবহার করে গবেষণা করেছে অক্সফাম। ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস পৃথিবীর শীর্ষ ধনী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭৫ বিলিয়ন ডলার। তালিকার পরের অবস্থানগুলো হলো স্প্যানিশ ব্যবসায়ী অ্যামানসিও ওর্তেগা (৬৭ বিলিয়ন ডলার), মার্কিন ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফেট (৬০.৮ লিলিয়ন ডলার), মেক্সিকান ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিম (৫০ বিলিয়ন ডলার), ই-কমার্স ওয়েবসাইট আমাজনের প্রধান জেফ বেজস (৪৫.২ বিলিয়ন ডলার), ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ (৪৪.৬ বিলিয়ন ডলার), সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরাকলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি অ্যালিসন (৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার) ও নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ (৪০ বিলিয়ন ডলার)।