বিদ্যুৎ বিল কমাতে সপ্তাহে একবার গোসল

3

যুক্তরাজ্যের একটি পরিবারের সদস্যরা বিদ্যুৎ বিল কমাতে সপ্তাহে একবার গোসল করতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর দেশটিতে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে খাদ্যপণ্যের দাম। মুদ্রাস্ফীতির কারণে এবারই ৪০ বছরের মধ্যেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করতে হচ্ছে দেশটির মানুষদের। লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমের ওই পরিবারটি জানায়, করোনা মহামারির পর জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের জীবনকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। পরিবারটিতে চারজন সদস্য রয়েছেন। জাহিয়া আতমানে, তার দুই কিশোরী মেয়ে, যাদের বয়স ১৩ এবং ১৪ বছর ও তার স্বামী। জাহিয়া বলেন, তারা শুধু মৌলিক খাদ্য পণ্যগুলো যোগাড় করতে পারছেন। বাবার বাড়ি থেকেও সহায়তা পান। তিনি বলেন, এটি আসলে অনেক চাপের বিষয়, বিশেষ করে আপনার ঘরে যদি সন্তান থাকে। তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই সংকট কাটিয়ে ওঠার। কিন্তু দিন দিন জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। জাহিয়া দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানান, তার স্বামী রেস্টুরেন্টে চাকরি করতেন। করোনা মহামারির কারণে তিনি চাকরি হারিয়েছেন।

তখন থেকেই তাদের জীবনযাত্রা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে এবং বিদ্যুৎ বিল কম রাখতে তারা সপ্তাহে একবার গোসল করেন এবং খুব প্রয়োজনীয় যে খাবার শুধু সেগুলো ক্রয় করেন। ওই নারী আরও বলেন, ‘ আমরা কাপড়চোপড় কেনা বন্ধ করেছি, ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু কেনা বন্ধ করে দিয়েছি, এমনকি সাবানও। শুধু প্রয়োজনীয় খাবার কিনছি।’ তিনি বলেন, অনেক সময় সন্তানদের বিদ্যমান পরিস্থিতি বোঝানো মুশকিল হয়ে যায়। আরও দুই মা একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। দুর্ভাগ্যক্রমে জাহিয়া শারীরিক জটিলতার কারণে কাজ করতে পারেন না। তার স্বামী একটি ফুলটাইম চাকরি খুঁজছেন। জাহিয়া আতমানের পরিবার শুধু নয় যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতির কারণে ভুক্তভোগী আরও অনেকে। একই অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটির বহু পরিবার।