বিজিবিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

56

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি বলেছেন, “বিজিবিকে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে বিজিবিকে ইতোমধ্যে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্টে’র অংশ হিসেবে সীমান্তে নতুন বিওপি, বিএসপি নির্মাণসহ অত্যাধুনিক সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট সিস্টেম স্থাপন, এটিভি ও অত্যাধুনিক এপিসি, রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকেল, ভেহিকেল স্ক্যানার ও দ্রুতগামী জলযান সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়াও অতিসম্প্রতি এই বাহিনীতে অত্যাধুনিক অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন (ATGW) সংযোজন করা হয়েছে।

শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে তিনি ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার, রাজশাহী কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অভিবাদন গ্রহণ শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার বক্তৃতায় নবীন সৈনিকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একইসাথে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বিজিবি সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
শাহরিয়ার আলম বলেন, জাতির পিতার হাতেগড়া এই বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বিজিবি ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, সীমান্তে চোরাচালান, নারী ও শিশুপাচার রোধসহ যে কোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমন সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখ-তা রক্ষার মহান দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সফলতার সাথে পালন করে আসছে। এছাড়াও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানসহ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও বিজিবি বিশ্বস্ততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে সমগ্র জাতির শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বিডিআরের ৩য় ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের চোরাচালানবিরোধী ও প্রেষণামূলক মূল্যবান বক্তব্যের কথা স্মরণ করে চোরাচালান রোধে নবীন সৈনিকদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনসহ ব্যক্তিগতভাবে সুদৃঢ়, সুশৃঙ্খল, নির্লোভ ও নির্ভীক সর্বোপরি উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নবীন সৈনিকদের নতুন জীবনে পদার্পণের শুভলগ্নে তাদের স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব, র‌্যাব-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মির্জা সালাহ উদ্দিন, ১ বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল সাব্বির আহমেদ, ৫৯ বিজিবির রহনপুর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আমির হোসেন মোল্লা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৫৩ বিজিবির প্যারেড গ্রাউন্ডে সকাল ১০টায় ৯৬তম ব্যাচ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শুরু হয়। মনোজ্ঞ এ প্যারেড পরিচালনা করেন ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের অফিসার ইনচার্জ মেজর মীর্জা মাঝহারুল ইসলাম এবং প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম অনুষ্ঠান শেষে ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে প্রথম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর ২৭৬৫ রিক্রুট (জিডি) মো. আব্দুল কাদের জিলানী এবং অন্যান্য বিষয়ে সেরা সৈনিকদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ গত ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়। মোট ২৪৮ জন রিক্রুট প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিজিবির অন্য আরো ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৯৬তম রিক্রুট ব্যাচের নবীন সৈনিকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাদের সৈনিক জীবনের শুভ সূচনা হয়।