বিএফআইইউ প্রধানকে তলব হাইকোর্টের

3

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের অর্থ রাখার বিষয়ে আদালতে দাখিল করা তথ্যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রধানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আজ বুধবার বেলা ১১টায় বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে হাইকোর্টে হাজির হতে হবে।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিবেদন ফরওয়ার্ডিং আকারে দিতে হয়। প্রতিবেদনে স্বাক্ষর দিতে হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে। কিন্তু প্রতিবেদনে এসবের কিছুই নেই। আমি বলেছি এটা একটা উদাসীন প্রতিবেদন। এতে আদালত ভর্ৎসনা করেছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আগামীকাল বেলা ১১টায় বিএফআইইউ প্রধানকে হাজির হতে বলেছে।’
গত ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড বলেন, সুইস ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য তথ্য চায়নি। সুইস ব্যাংকের ত্রুটি সংশোধনে সুইজারল্যান্ড কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এরপর গত ১১ আগস্ট বিষয়টি নজরে নিয়ে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমাকারীদের তথ্য কেন জানতে চাওয়া হয়নি তা রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানাতে বলেছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে সুইস রাষ্ট্রদূতের দেয়া বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের অনুলিপিও দাখিল করতে বলা হয়। সে অনুযায়ী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সুইস রাষ্ট্রদূত মিথ্যা বলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ফিন্যান্স সেক্রেটারি আমাকে আগে জানিয়েছিলেন; তারা তথ্য চেয়েছিলেন কিন্তু তারা (সুইস ব্যাংক) উত্তর দেয়নি। আমি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। উনি আগে ফাইন্যান্স সেক্রেটারিও ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, নো, আমরা আগে তথ্য চেয়েছি, তারা কোনো রেসপন্স করেননি। তখন আমি বলেছি, এটা আপনি সবাইকে জানিয়ে দিন। কারণ এভাবে মিথ্যা বলে পার পাওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরো বলেন, এরপর আদালতে দুদক এবং বিএফআইইউ’র পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ হলফনামা আকারে তথ্য দাখিল করে। ওই হলফনামায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বিএফআইইউ প্রধানকে তলব করে আদেশ দেয়া হয়েছে।
বিএফআইইউ’র তথ্যে বলা হয়, সুইস ব্যাংক চলতি বছরের ১৬ জুন বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরদিন এগমন্ড সিকিউর ওয়েব (ইএসডব্লিউ) এর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশী ব্যাংক ও ব্যক্তির জমানো অর্থের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে (ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) অনুরোধ করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পায়নি বাংলাদেশ।
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ, অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য বিএফআইইউ বিদেশী এফআইইউদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। তবে বিশ্বব্যাপী এসব তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো এগমন্ড সিকিউর ওয়েব (ইএসডব্লিউ)। ২০১৩ সালের জুলাইতে ইএসডব্লিউর সদস্য হওয়ার পর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৬৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য চায় বাংলাদেশ। ইএসডব্লিউর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউকে এ তথ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।