বিএনপি-জামায়াতের টানাপোড়ন

59

gourbangla logoপৌরসভা ও চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন কেন্দ্র করে বিএনপির সাথে জামায়াতের দূরত্ব আরো বাড়ছে। একই জোটভুক্ত হলেও বিএনপির সাথে জামায়াতের টানাপোড়েন দিন দিন বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেও জামায়াতের নেতাদের পাওয়া যাচ্ছে না। জামায়াত নেতারা বলছেন- বিগত পৌরসভা নির্বাচন জোটগতভাবে হয়নি। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও জোটগতভাবে হচ্ছে না। সেখানে জোটের শরিক দলের বৈঠক করে নির্বাচনে থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি। বরং বিএনপি নিজেরাই জামায়াতের ব্যাপারে দূরত্ব সৃষ্টি করতে চাইছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার জের ধরে নির্বাচনে থাকা না থাকার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অন্যান্য শরিক দল অংশ নিলেও জামায়াত অংশ নেয়নি। এর আগেও পরপর জোটের শীর্ষ নেতাদের দুটি বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেউ অংশ নেননি। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন নেই। দলটি ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতে নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে আপিল করায় বর্তমানে এখন আপিল বিভাগে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকরা এখন শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ হলে দল কী করবে সেই বিকল্পের কথা ভাবছে। তারপরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই চলমান ইউপি নির্বাচনে জামায়াত তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে।বিগত পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী যেসব পৌরসভায় তাদের দলীয় মেয়র ছিল এবং যেসব পৌরসভায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ওসব আসনের কথা বিবেচেনা করে ওই নির্বাচনে বিএনপির কাছে অর্ধশত আসন দাবি করেছিল। আর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জামায়াতের দাবি ছিল সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা। তবে বিএনপি চেয়েছিল স্থানীয়ভাবে জামায়াতের সাথে সমঝোতায় আসতে। তবে বাস্তবে তা হয়নি। যার ফলে জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দিয়ে পৌরসভা ও চলমান ইউপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অনেক শরিক দলই জামায়াতে ইসলামীকে বেশি গুরুত্ব দেয়াকে ভালো চোখে দেখেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জোটের একাধিক বৈঠকে জামায়াত নেতাদের অনুপস্থিতিতে অনেক শরিক দলের নেতারাই খুশি। তাদের মতে- জামায়াতের আগের মতো শক্তি এখন নেই। এখন ওই দলটির জোটে থাকা না থাকা নিয়ে কিছু যায়-আসে না। তবে বিএনপি হাইকমান্ড মনে করে জামায়াতকে জোটে রাখা উচিত। কারণ তাদেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। জোটে থাকলে এই ভোট বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকবে। দেশের রাজশাহী, যশোর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর জলঢাকা, সৈয়দপুর, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, চারঘাট, তানোর, নওহাটা, নাটোরের সিংড়া, নলডাঙ্গা, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, বগুড়ার কাহালু, জয়পুরহাট, খুলনার পাইকগাছা, ঝিনাইদহের মহেশপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, সাতক্ষীরা, কলারোয়া, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, কমলগঞ্জ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সীতাকু-, পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল মহেশখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া এবং কক্সবাজার এলাকায় জামায়াতের প্রভাব বেশি। ওসব এলাকায় জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে জামায়াত নেতারা আশাবাদী। অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জামায়াতের তোয়াক্কা না করায় দলের নীতিনির্ধারকরা ক্ষুব্ধ। কারণ বিএনপির নেতারা বলছেন- দল নিষিদ্ধ হওয়ায় দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে জামায়াত। তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েই নির্বাচন করতে হবে। তারপরও যেসব আসনে ধানের শীষ প্রার্থী নেই সেখানে জামায়াতের প্রার্থীকে ছাড় দিতে রাজি ছিল বিএনপি। সেই লক্ষ্যে যেসব ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নেই সেখানে জামায়াতকে প্রার্থী দিতে বলা হয়েছিল। যা স্থানীয়ভাবে আলোচনা সাপেক্ষে সমঝোতায় যাওয়া যেত। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী তাদের মতো করে প্রার্থী দিয়েছে। তারা একলা চলো নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।