বিএনপি ক্ষমতায় এলে সকল ভাতা বন্ধ করে দেবে :  বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে আব্দুল ওদুদ এমপি

35

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদ কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি ও কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী। তিনি কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা যেন বীজ ও সারের জন্য কষ্ট না পায় সেজন্য তিনি প্রণোদনা দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়Ñ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা, বয়স্ক, স্বামী নিগৃহীতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ নানান ধরনের ভাতা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর কমিউনিটি ক্লিনিক করেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা আবার সেসব চালু করেন। এমন কোনো পরিবার নেই, যে পরিবার কোনো না কোনো ভাতা পায় না। সামনে জাতীয় নির্বাচন, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি সরকার গঠন করতে না পারে, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যদি প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন তাহলে এই ভাতা বলেন আর কমিউনিটি ক্লিনিক বলেন সব বন্ধ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত সরকারের প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছমিনা খাতুন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেনÑ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি, ভাইস চেয়ারম্যান তোসিকুল আলম বাবুল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার। সূচনা বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার সরকার। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আনিসুল হক মাহমুদ।
আব্দুল ওদুদ বলেনÑ বিএনপি নির্বাচন করবে না। কারণ, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। এজন্যই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিত তৈরির চেষ্টা করছে।
স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সকল শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আব্দুল ওদুদ বলেনÑ একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আইন আদালত ছিল না, রাস্তাঘাট ছিল না, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল না, বলতে গেলে কোনো কিছুই ছিল না। এমন সময়ে বঙ্গবন্ধু দায়িত্বভার নিয়ে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে অনেক কিছু করেছিলেন। এরপর জিয়াউর রহমান প্রথমে সেনা শাসক পরে জাগদল গঠন এবং হ্যাঁ না ভোট করে ক্ষমতায় ছিলেন, মাঝে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, ১৯৯১-১৯৯৬ বিএনপি এবং ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। এই এত বছরে তারা ইসলামের জন্য কিছুই করেনি। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু তাবলিগ জামায়াতের জন্য বিশ^ ইজতেমার ব্যবস্থা করেন, ইসলামের প্রসার ঘটানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন করেন; যেখানে মসজিদ ও মক্তবভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ইসলামিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করেছেন।
আব্দুল ওদুদ আগামী সংদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।