বায়ার্নকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে ভিয়ারিয়াল

6

বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভিয়ারিয়াল। গত শনিবার মিউনিখের আলিয়াঁজ এরিনাতে স্যামুয়েল চুকউয়েজের ৮৮ মিনিটের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ ক্লাবটি। প্রথম লেগে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার সুবাদে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে বায়ার্নকে পিছনে ফেলে শেষ চারের টিকিট পেয়েছে ভিয়ারিয়াল। রবার্ট লিওয়ানদোস্কির ৫২ মিনিটের গোলে বায়ার্ন মঙ্গলবারের ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল। ম্যাচটি যখন নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই নাইজেরিয়ার ২২ বছর বয়সী এ্যাটাকার চুকউয়েজে ভিয়ারিয়ালকে স্বপ্নের সেমিফাইনাল উপহার দেন। এর আগে শেষ ১৬’তে জুভেন্টাসকে তুরিনের মাঠে ৩-০ গোলে হারানোর পর উনাই এমেরির ভিয়ারিয়ালের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে ভিয়ারিয়ালের ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও ম্যাচ সেরা রাউল আলবিওল বলেছেন, ‘আমরা জুভেন্টাসের বিপক্ষে কঠিন লড়াই করেছি, বায়ার্নও ছেড়ে কথা বলেনি। কিন্তু এখন আমরা দুটো দলকেই পরাজিত করে সেমিফাইনালে জায়গা কর নিয়েছি। এখন আমাদের স্বপ্ন আরো দুরে এগিয়ে যাওয়া।’ ২০০৬ সালের পর এই প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করলো ভিয়ারিয়াল। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ লিভারপুল ও বেনফিকার মধ্যকার বিজয়ী দল। প্রথম লেগে বেনফিকাকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে শেষ চারের পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা। এনিয়ে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো বায়ার্নকে। ভাল খেলার পরেও এই ধরনের হার কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বায়ার্নের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড থমাস মুলার, ‘এই ধরনের পারফরমেন্সের পরেও গোল হজম করার অভিজ্ঞতা সত্যিই মেনে নেয়া কঠিন। পুরো ম্যাচেই আমরা চাপ সৃষ্টি করে খেলেছি। এই ধরনের ম্যাচে গোল হজমের কোন কারনই নেই।’
নিজেদের রক্ষা করার জন্য বায়ার্ন তাদের রক্ষনভাগে সব কিছুই করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারপরেও বেভারিয়ান্সদের হতাশ হতে হলো। ম্যাচের প্রায় বেশীরভাগ সময় দাপট দেখিয়েও শেষ রক্ষা হলোনা। ম্যাচ শেষের মাত্র দুই মিনিট আহে চুকওয়েজের গোলে ভিয়ারিয়ালের জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে বায়ার্ন। কিন্তু ভিয়ারিয়াল তাদের রক্ষনভাগে বেশ সতর্ক ছিল। বায়ার্নের কোচ জুলিয়ান নাগলসম্যান ফর্মেশন পরিবর্তন করে চারজনের পরিবর্তে রক্ষনভাগে তিনজনকে রেখেছিলেন। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় ভিয়ারিয়াল তাদের নিজেদের অর্ধে বেশ সড়ব ছিল। বেঞ্জামিন পাভার্ড, ডায়োট উপামেকানো ও লুকাস হার্নান্দেজ পিছন থেকে বায়ার্নকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। জামাল মুসিয়ালার একটি হেড সরাসরি ভিয়ারিয়ালের গোলরক্ষক জারোনিমো রুলির হাতে ধরা পড়ে।

প্রথমার্ধে এই একটি ভাল সুযোগ তৈরী করেছিল স্বাগতিকরা। প্রথম থেকে ভিয়ারিয়ালের কঠোর নজড়দারিতে থাকা লিওয়ানদোস্কিও খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না। ভিয়ারিয়ালের রক্ষনভাগে থাকা চারজন শুরু থেকেই নিজেদের দায়িত্ব শতভাগ পালন করেছেন। কিন্তু লেরয় সানের কারণে বিশেষ করে লেফট-ব্যাক পারভিস এস্তুপিনান বেশ ব্যস্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৫২ মিনিটে ডেডলক ভাঙ্গে বায়ার্ন। কিংসলে কোম্যানের কাছ থেকে বল পেয়ে যান মুলার। জার্মান তারকার বাড়িয়ে দেয়া পাসে লিওয়ানদোস্কি দুই ডিফেন্ডারের মধ্য দিয়ে রুলিকে পরাস্ত করেন। এবারের মৌসুমে এনিয়ে ১০ম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে ১৩তম গোল করলেন লেভা। সমতা ফেরানোর পরেও বায়ার্ন একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে। মুলারের হেড, কোম্যানের শট আটকাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে রুলির। ম্যাচ জয়ী গোলের আশায় নাগলসম্যান সার্জি গ্যানাব্রি ও আলফোনসো ডেভিসকে ামঠে নামান। কিন্তু জেরার্ড মোরেনোর লো ক্রসে চুকউয়েজের শট রুখতে পারেননি ম্যানুয়েল নয়্যার। এই গোলেই ভিয়ারিয়ালের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত হয়।