বাড়ছে বাঘের সংখ্যা

126

gourbangla logoএটি একটি আশাব্যঞ্জক খবর যে, বিশ্বে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও। তবে এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার খবরটি উদ্বেগজনক। সম্প্রতি দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বাঘ আছে এমন ১৩টি দেশের বন ও পরিবেশমন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রাক্কালে পরিবেশিত হয় এই তথ্য। প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করে এমন আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) এবং গ্লোবাল টাইগার ফোরাম পরিবেশিত তথ্যে সর্বশেষ বাঘ সম্পর্কিত খবরা খবর মিলেছে। সংস্থা দুটি বলছে, বৈশ্বিক গণনায় বাঘের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৯০টি। ২০০০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২০০। তবে এক শ’ বছর আগে বাঘ ছিল ১ লাখ। বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বন-জঙ্গলের আশপাশের স্থানীয় মানুষজন এবং সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের তৎপরতায় ব্যাঘ্রকুলের এই সমৃদ্ধি। সংস্থা দুটির মতে, একসঙ্গে কাজ করলে যে কোন প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা সম্ভব। টাইগার ফোরামের হিসাব মতে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বাঘের আবাসস্থল ভারত। ২০১৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, সে দেশে বাঘের সংখ্যা ২ হাজার ২২৬টি। ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশসহ বাঘ অধ্যুষিত অঞ্চল সংরক্ষণ কাজে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার ফলে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা। অনুরূপ গুজরাটের গির অরণ্যে বেড়েছে সিংহের সংখ্যাও। এখানে যা উল্লেখযোগ্য তা হলো, বাঘ ও সিংহের রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় অধিবাসী তথা গ্রামবাসীরাই। বন বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করে মাত্র। সে কারণে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে রাশিয়া, ভুটান, নেপাল ও অন্যত্র।অন্যদিকে বাঘের সংখ্যা কমেছে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায়। গত বছর প্রকাশিত বন বিভাগের এক জরিপে বলা হয়, বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬। অথচ ২০০৬ সালের জরিপে বলা হয়েছিল, সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের মতে, তখন সম্ভবত বেশি দেখানো হয়েছিল বাঘের সংখ্যা। অন্যদিকে সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বাঘের সংখ্যা কমেছে ইন্দোনেশিয়ায়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে পাম তেল, কাগজের ম- তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ বন ধ্বংস করার কারণেই সেখানে কমেছে বাঘের সংখ্যা।তাই বলে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কমার কারণ কী? এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোন কার্যকারণ জানা না গেলেও বলা যায়, সুন্দরবনের ওপর স্থানীয়দের মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই বাঘের সংখ্যা কমার অন্যতম কারণ। ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা জীবনজীবিকার জন্য প্রধানত বন ও বনসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কাঠ কাটে, কেউ গোলপাতা সংগ্রহ করে, কেউ মধু অন্বেষণ করে আবার কেউবা মাছ কাঁকড়া ইত্যাদি ধরে থাকে। লবণাক্ত পানির কারণে চাষবাস হয় না বিধায় বনই তাদের জীবন জীবিকা। এর পাশাপাশি রয়েছে চোরা শিকারির উৎপাত-উপদ্রব, যারা প্রধানত হরিণ ও বাঘ শিকার করে থাকে। সিডর-আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তবে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে বাঘের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভাল। সেক্ষেত্রে দু’দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় বাঘের সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। মোট কথা, বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে স্থানীয়দের বিকল্প জীবন-জীবিকার পাশাপাশি উদ্বুদ্ধ করতে হবে বাঘ সংরক্ষণে। বাঘ অধ্যুষিত দেশগুলো ২০২২ সালের মধ্যে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সে অবস্থায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশে ব্যাঘ্র প্রজাতি সুরক্ষা পেতে পারে।