বাড়ছে অপহরণের ঘটনা

41

gourbangla logoদেশে অপহরণ যেন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপহৃতদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু থেমে থাকছে না অপহরণ। অনেক অপহৃতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক অপহরণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে হুমকি দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্বজন হারানো পরিবারগুলো অসহায় বোধ করছে। অমিপ্রভা তালুকদারকে দুই বছর আগে রাজধানীর শিশু হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। থানায় অভিযোগ করা হলে তদন্তের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন জামিনে বেরিয়ে এসে অমিপ্রভার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে পরিবারটি। সোমবার প্রধান অভিযুক্তের জামিনের শুনানি হওয়ার কথা। তার জামিন হয়ে গেলে অমিপ্রভার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবেÑএমন হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়েটির বাবা। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক আবদুল হান্নান। বাড়ি থেকে হাঁটতে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। একটা মানুষ কি এভাবে হারিয়ে যেতে পারে? চার মাসেও কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবে না? পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত তাঁর নিখোঁজের ব্যাপারে কোনো রহস্যই উদ্ঘাটন করতে পারেনি। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী গজনী এলাকার গারো নৃগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি চার দিন ধরে নিখোঁজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় জিডি করতে গিয়ে ফিরে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারে। শুক্রবার রাতে জেলার কুলাউড়া উপজেলার এক বাড়িতে ঢুকে মাকে হত্যা করে মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে এলাকার চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। পুলিশ মেয়েটিকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি। এলাকার সবার কাছেই প্রধান অভিযুক্ত মসিক মিয়া পরিচিত হলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রকাশিত এসব খবরে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আবার শেরপুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক অপরাধী বেরিয়ে এসে নতুন করে অপরাধ করে। অমিপ্রভাকে অপহরণের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, জামিন পেয়ে তারা যে নতুন করে অপরাধ করবে না, সে নিশ্চয়তা কে দিচ্ছে? এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। বিচার না হলে সমাজে অপরাধ বাড়বেÑএটাই স্বাভাবিক। এভাবে পরিস্থিতি একসময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কাজেই অপহরণের ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেÑ এটাই প্রত্যাশা।