বাড়ছেই ওষুধের দাম

51

gourbangla logoওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর নামে একটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও খোলাবাজারে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। প্রস্তুতকারী কম্পানিগুলো নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করে। বড় কম্পানিগুলো কিছুদিন পর পর ওষুধের দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজারে সরবরাহের পর দোকান থেকে ওষুধ তুলে নিয়ে সেই ওষুধের প্যাকেটে বাড়তি দামের নতুন লেবেল লাগিয়ে দেওয়ার মতো অনৈতিক ঘটনাও ঘটে। ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরও দুর্বলতা এখানে স্পষ্ট। দেশে বর্তমানে এক হাজার ৪০০ জেনেরিকের ২৭ হাজার ব্র্যান্ড ওষুধ তৈরি হয়। সরকার আইনগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ১১৭টি ওষুধের দাম। এই তালিকায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের নাম নেই। আইনের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রস্তুতকারী কম্পানিগুলো এক হাজারেরও বেশি জেনেরিক ওষুধের দাম নিজেদের মতো করে নির্ধারণ করছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে। কখনো আবার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখানো হচ্ছে। দায় চাপানো হচ্ছে সরকারের ওপর। নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধের বাজার চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ ও সরকারের নাগালের বাইরে। ওষুধের দাম যেমন বাজারে স্থিতিশীল নয়, তেমনি মানও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ কারণে ওষুধ নিয়ে দেশের মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। দেশের অভ্যন্তরে অনেক প্রতিষ্ঠান নকল ওষুধ তৈরি করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ফুড সাপ্লিমেন্টের নামে আমদানি করে মানহীন ওষুধ। চোরাই পথেও আসে মানহীন ওষুধ। সরকারি ওষুধ পরীক্ষাগারে গত বছরের প্রথমার্ধে মোট চার হাজার ৮৪৬টি ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, পাওয়া যায় মানহীন ১৫৩টি ওষুধ। অথচ ওষুধশিল্পে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশে তৈরি ওষুধ এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের অর্থনীতিতে ঔষধশিল্পের অবদান এখন অনেক বড়। বিপরীত চিত্র হচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের ওষুধ জীবনরক্ষা নয়, জীবনহানির কারণ হয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি কম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সেবন করে শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। ওষুধ কম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখায়। এ ক্ষেত্রেও অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এক শ্রেণির ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষের দিকে আসা কাঁচামাল খুঁজে বের করে। পরে কম দামে বা মূল্য ছাড়ে এসব পণ্য কিনে বাংলাদেশে ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করে। বাজারে এমন একাধিক জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাবে, যেগুলোর দাম ভিন্ন। একই জেনেরিকের নানা ব্র্যান্ডের ওষুধের মধ্যে গুণগত মানে কোনো তফাত থাকা সম্ভব নয়। তাহলে দামের ক্ষেত্রে পার্থক্য কেন?  সরকারের আইনের দুর্বলতার কারণেই ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। জরুরি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।